একটি দুর্ঘটনা, ৪৫টি নিভে যাওয়া প্রাণ—মিরসরাই ট্র্যাজেডির ১৫ বছর
মিয়ানমারে বিমান হামলার বিকট শব্দ; বিস্ফোরণে কাঁপছে টেকনাফ সীমান্ত
বাঙালির অধিকার আদায়ের আন্দোলন থেকে রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ইতিহাস—৭৭ বছরে আওয়ামী লীগ
মেসির সম্মানে ২৬ মিটার উচ্চতার ভাস্কর্য, আজই ভাঙতে পারেন তিন বিশ্বরেকর্ড
গ্রাফিকঃ দৈনিক লাল সবুজ বাংলাদেশ।
ভারতে নিটের প্রশ্নফাঁসকে ঘিরে তৈরি হওয়া পরিস্থিতির মোকাবিলায় গোটা দেশেই এ বার সরাসরি মাঠে নামছে ‘সঙ্ঘ পরিবার’ ভারতের রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ (RSS)। শিক্ষা ক্ষেত্রে সক্রিয় আরএসএস-এর সহযোগী সংগঠনগুলি বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। এ রাজ্যে যা শুরু হচ্ছে শুক্রবার দুপুর থেকেই। ছাত্র সংগঠন এবিভিপি, শিক্ষক-অধ্যাপকদের সংগঠন এবিআরএসএম, বিএসএম, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পরিচালক সংগঠন বিদ্যা ভারতী-সহ অন্তত আধ ডজন সংগঠন একযোগে মিছিল ও পথসভার ডাক দিয়েছে জেলায় জেলায়। কয়েক দিনের মধ্যেই কলকাতাতেও কেন্দ্রীয় মিছিল হবে।
বিস্তারিতমাঝরাতে চারদিকে প্রচণ্ড ঝড়-বৃষ্টি। সরকারি কর্মচারী হাসপাতালের আইসিইউ এর বেডে অক্সিজেন সাপোর্টে থাকা চার বছরের এক শিশুর প্লাটিলেট দ্রুত নেমে যাচ্ছে আশঙ্কাজনক মাত্রায়। রক্তের জরুরি প্রয়োজন, কিন্তু হাসপাতালে সরঞ্জামের সংকট। অন্যদিকে, ২০তম গ্রেডের স্বল্পআয়ের অফিস সহায়ক বাবার পকেটে চিকিৎসার জন্য টাকা নেই।
ঠিক এমন এক কঠিন মুহূর্তে সামাজিক সহায়তার অনন্য সমন্বয়ে অলৌকিকভাবে জীবন ফিরে পেল শিশু মিহিরিমা জেবিন (জেবিন মনি)। তবে এ ঘটনা কেবল একটি শিশুর অলৌকিক জীবন রক্ষার গল্পেই সীমাবদ্ধ নেই; এটি সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য প্রস্তাবিত ‘ক্যাশলেস’ চিকিৎসা ও সামাজিক স্বাস্থ্য সুরক্ষার বাস্তব কার্যকারিতা’ প্রমাণ করে দিয়েছে।
🌩️ ঝড়বৃষ্টির রাতে জীবন রক্ষার সেই লড়াই:
গত ০৬ মে, ২০২৬ তারিখে হঠাৎ তীব্র অসুস্থ হয়ে পড়লে শিশু জেবিন মনিকে সরকারি কর্মচারী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরীক্ষার পর চিকিৎসকেরা একসঙ্গে একাধিক জটিল রোগ শনাক্ত করেন—তীব্র ডেঙ্গু, মারাত্মক নিউমোনিয়া, টাইফয়েড এবং রক্তে ছড়িয়ে পড়া ব্যাকটেরিয়াল সংক্রমণ। অবস্থা দ্রুত সংকটাপন্ন হয়ে উঠলে তাকে আইসিইউ ও বিশেষায়িত চিকিৎসার পরামর্শ দেওয়া হয়।
জেবিন মনির বাবা মো. সাহাদ হোসাইন (কৃষি মন্ত্রণালয়ের ২০তম গ্রেডের অফিস সহায়ক) আকুল কণ্ঠে বলেন, "একদিকে মেয়ের জীবন বাঁচানোর লড়াই, অন্যদিকে চিকিৎসার ব্যয়—আমি সম্পূর্ণ দিশেহারা হয়ে পড়েছিলাম। এমন মুহূর্তে কী সিদ্ধান্ত নেব, সেটাও বুঝতে পারছিলাম না।"
এমন চরম সংকটে এগিয়ে আসেন ‘কৃষি মন্ত্রণালয় কর্মকর্তা-কর্মচারী কল্যাণ সমিতি’র সদস্যরা। গভীর রাতে শিশুটির প্লাটিলেট কমে গেলে দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার মধ্যে সমিতির সদস্য ‘মো. আব্দুর রব’ নিজে রক্তদাতা হিসেবে এগিয়ে আসেন। রাতারাতি জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিকস সার্জারি ইনস্টিটিউট থেকে প্রয়োজনীয় রক্ত সঞ্চালন সরঞ্জাম সংগ্রহ করে সেবা নিশ্চিত করা হয়। টানা সাত দিনের নিবিড় চিকিৎসার পর শিশুটিকে সম্পূর্ণ আশঙ্কামুক্ত ঘোষণা করেন চিকিৎসকেরা।
🏢 ঢাকা শহরকে ৭ জোনে ভাগ: সামাজিক স্বাস্থ্য সহায়তার রূপরেখা:
কৃষি মন্ত্রণালয়ের এই স্বনির্ভর গাইডলাইনের অধীনে পুরো ঢাকা শহরকে ৭টি আবাসনভিত্তিক জোনে ভাগ করা হয়েছে। এর অধীনে জরুরি রক্তদাতা নিশ্চিতকরণ, প্রয়োজনীয় ঔষধ ও প্যাথলজিক্যাল পরীক্ষা, তাৎক্ষণিক আর্থিক সহযোগিতা এবং হাসপাতালে প্রশাসনিক সমন্বয় রক্ষা করা হয়।
জোন-১ (আজিমপুর): প্রশাসনিক কর্মকর্তা ‘রাবেয়া সিদ্দীকা’ জানান, একাকী জীবনে হঠাৎ অসুস্থতায় তাৎক্ষণিক সাহায্য পেতে এই জোনভিত্তিক নেটওয়ার্ক একটি পরম ভরসার জায়গা।
জোন-৭ (যাত্রাবাড়ী): অফিস সহকারী ‘আবদুল্লাহ আল আহাদ’ (শারীরিক প্রতিবন্ধী কর্মী) জানান, অ্যানাল ফিস্টুলা অপারেশনের সময় সমিতির শর্তহীন ঋণ ও অফিশিয়াল হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের মাধ্যমে দ্রুত তথ্য আদান-প্রদানের সুযোগ সাধারণ কর্মীদের জন্য অভূতপূর্ব আশীর্বাদ।
💰 ১,০০০ কোটি টাকার অলস তহবিল ও 'ক্যাশলেস' মডেলের সম্ভাবনা:
বিশেষজ্ঞদের মতে, জেবিন মনির জীবন রক্ষার ঘটনাটি ভবিষ্যৎ জাতীয় স্বাস্থ্য সংস্কারের একটি কার্যকর নমুনা। কৃষি মন্ত্রণালয়ের ব্যক্তিগত কর্মকর্তা **আব্দুল হামিদ** কল্যাণ সমিতির মাধ্যমে ক্ষুদ্র পরিসরে এই প্রস্তুতিমূলক মডেলটি বাস্তবায়ন করেন।
প্রস্তাবিত মডেলের মূল ৪টি ভিত্তি:
১. কল্যাণ তহবিল, ২. ইউনিক হেলথ আইডি, ৩. ডিজিটাল স্বাস্থ্য প্ল্যাটফর্ম, ৪. ক্যাশলেস চিকিৎসা সেবা ।
বর্তমানে বাংলাদেশ সরকারি কর্মচারী কল্যাণ বোর্ডে প্রায় ‘১,০০০ কোটি টাকার অলস তহবিল’ রয়েছে। সরকারের ওপর কোনো বাড়তি বাজেট চাপ বা আর্থিক বরাদ্দ ছাড়াই এই তহবিল এবং বিদ্যমান প্রশাসনিক কাঠামোর ডিজিটাল সমন্বয়ে সরকারি কর্মচারীদের জন্য একটি স্বনির্ভর ক্যাশলেস চিকিৎসা ব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব।
ইতিমধ্যে ’নবম জাতীয় বেতন কমিশন’ আব্দুল হামিদের ডিজাইন করা এই ‘ক্যাশলেস স্বাস্থ্যবীমা মডেল’টি দেশব্যাপী চালুর জন্য সরকারের কাছে জোরালো নীতিগত সুপারিশ পেশ করেছে।
☀️ জাতীয় বাস্তবায়নের আহ্বান:
টাকার অভাবে যেন কোনো বাবার কোল খালি না হয়, ঔষধ কিনতে গিয়ে সৎ কৃষককে যেন সম্বল বিক্রি করতে না হয়, কিংবা রেমিট্যান্স যোদ্ধার সঞ্চয় যেন হঠাৎ চিকিৎসায় নিঃশেষ না হয়—তার স্থায়ী সমাধান এই মডেল। দেশের ১৬ কোটি মানুষকে চিকিৎসাজনিত দারিদ্র্যের অভিশাপ থেকে মুক্তি দিতে এবং "স্বাস্থ্যসেবায় সবার আগে বাংলাদেশ" গড়ার স্বপ্ন বাস্তবায়নে এই ক্যাশলেস স্বাস্থ্য মডেলের জাতীয় বাস্তবায়ন এখন সময়ের দাবি।