ঢাকা
খ্রিস্টাব্দ

১৫ কর্মচারীকে বদলি / শ্রমিক-কর্মচারীদের টানা কর্মবিরতিতে অচলাবস্থায় চট্টগ্রাম বন্দর / এনসিটি বিদেশি প্রতিষ্ঠানকে ইজারা দেওয়ার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ
শ্রমিক-কর্মচারীদের টানা কর্মবিরতিতে অচলাবস্থায় চট্টগ্রাম বন্দর

বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের ডাকে চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কন্টেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) বিদেশি প্রতিষ্ঠানকে ইজারা দেওয়ার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে শ্রমিক-কর্মচারীদের টানা কর্মবিরতির কারণে অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে। শ্রমিক-কর্মচারীদের অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতিতে বন্দরের সব কার্যক্রম কার্যত বন্ধ রয়েছে।

বিস্তারিত
১৫ কর্মচারীকে বদলি / শ্রমিক-কর্মচারীদের টানা কর্মবিরতিতে অচলাবস্থায় চট্টগ্রাম বন্দর / এনসিটি বিদেশি প্রতিষ্ঠানকে ইজারা দেওয়ার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ
শ্রমিক-কর্মচারীদের টানা কর্মবিরতিতে অচলাবস্থায় চট্টগ্রাম বন্দর

বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের ডাকে চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কন্টেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) বিদেশি প্রতিষ্ঠানকে ইজারা দেওয়ার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে শ্রমিক-কর্মচারীদের টানা কর্মবিরতির কারণে অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে। শ্রমিক-কর্মচারীদের অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতিতে বন্দরের সব কার্যক্রম কার্যত বন্ধ রয়েছে।

বিস্তারিত
ভারতের উত্তর প্রদেশের গাজিয়াবাদে এক হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটেছে। বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) একসঙ্গে তিন বোন ৯ তলা ভবন থেকে লাফ দিয়ে আত্মহত্যা করেছে। তারা সবাই নাবালিকা এবং গাজিয়াবাদের একটি আবাসিক সোসাইটির বাসিন্দা। 

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বোন তিনজন বিশিকা (১৬), প্রাচী (১৪) ও পাখি (১২) আত্মহত্যা করার আগে ঘরটি ভেতর থেকে তালাবদ্ধ করে রাখে। আশপাশের বাসিন্দারা ঘুমে থাকায় তারা ঘটনাটি ততক্ষণ বুঝতে পারেননি। পরে তিন বোনের নিচে পড়ার শব্দে ঘুম ভেঙে যায়। পরিবার যখন দরজা ভেঙে ঘরে প্রবেশ করে, তখন তারা ইতিমধ্যেই লাফিয়ে পড়েছিল।

এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই তিন বোন এক কোরিয়ান গেমের নেশায় ছিল, যা তাদের মধ্যে পারিবারিক কলহের অন্যতম কারণ ছিল। করোনাকালে তারা অনলাইনে গেমের প্রতি এতটাই আসক্ত হয়ে পড়ে যে, নিয়মিত স্কুলে যাওয়া বন্ধ করে দেয়। তারা তাদের গেমের প্রিয় চরিত্রের মতো নিজেদের কোরিয়ান নামও ব্যবহার করত।

গেম আসক্তির কারণে তাদের আচরণে এক ধরনের অদ্ভুত ঘনিষ্ঠতা ছিল, খাওয়া, ঘুমানো, গোসল সবকিছুই তারা একসঙ্গে করত। বাড়ি থেকে একটি চিরকুট উদ্ধার করা হয়েছে, যেখানে কান্নার ইমোজি দিয়ে লেখা ছিল, ‘দুঃখিত, বাবা’।

এই ঘটনাটি সামাজিক সচেতনতার জন্য একটি শোকাবহ সতর্কবার্তা হয়ে দাঁড়িয়েছে। যেখানে তরুণ প্রজন্মের মানসিক চাপ ও গেম আসক্তির প্রভাবের গুরুত্ব পুনরায় আলোচিত হচ্ছে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর থেকেই দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে ক্রমেই উত্তাপ বাড়ছে। প্রচার-প্রচারণা শুরুর সঙ্গে সঙ্গে সেই উত্তেজনা এখন রূপ নিয়েছে সহিংসতায়। জনসভা, গণসংযোগ ও নির্বাচনী কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া, হামলা ও প্রাণহানির ঘটনা উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে।



তফসিল ঘোষণার পর থেকে এখন পর্যন্ত দেশে চারটি রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ডসহ অন্তত ১৪৪টি সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। শেরপুর, গাজীপুর ও ময়মনসিংহে প্রাণহানির ঘটনাগুলো জনমনে গভীর আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তথ্যমতে, এসব সহিংসতার বড় অংশই ঘটছে প্রতিদ্বন্দ্বী ও বিদ্রোহী প্রার্থীদের সমর্থকদের মধ্যে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে।



শেরপুরে ইশতেহার পাঠ অনুষ্ঠানে প্রাণহানি:



গত ২৮ জানুয়ারি শেরপুরের শ্রীবরদী উপজেলায় নির্বাচনী ইশতেহার পাঠ অনুষ্ঠানে চেয়ারে বসাকে কেন্দ্র করে বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এতে জামায়াতে ইসলামীর উপজেলা সেক্রেটারি মাওলানা রেজাউল করিম নিহত হন।



একই দিন ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলায় বিএনপির দুই পক্ষের মধ্যে ঘণ্টাব্যাপী ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এছাড়া গত মঙ্গলবার রাতে চট্টগ্রাম নগরীর খুলশী থানার আমবাগান এলাকায় বিএনপি ও জামায়াতের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়।



গাজীপুরে প্রার্থীর ওপর হত্যাচেষ্টার অভিযোগ:



গতকাল রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) সকালে গাজীপুর-২ আসনে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী আলী নাছের খানকে গাড়িচাপা দিয়ে হত্যাচেষ্টা ও হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় নির্বাচন কমিশনের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। একই ঘটনায় এনসিপির গাজীপুর জেলা সদস্যসচিব আল আমিন আহত হয়েছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।



এদিকে তফসিল ঘোষণার মাত্র ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি গুলিবিদ্ধ হন। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।



নির্বাচনী সহিংসতায় এখন পর্যন্ত নিহত চারজন হলেন—



(১) ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক- শরিফ ওসমান হাদি (ঢাকা, পল্টন), (২) জামায়াতে ইসলামীর নেতা- মাওলানা রেজাউল করিম (শেরপুর), (৩) জাসাস নেতা- ফরিদ সরকার (গাজীপুর, শ্রীপুর), (৪) স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থক- মো. নজরুল ইসলাম (ময়মনসিংহ, ধোবাউড়া),



সহিংসতার বিস্তৃতি ও পরিসংখ্যান-



আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদরদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২৫টি জেলা ও তিনটি মহানগরে এই সহিংসতা ছড়িয়ে পড়েছে। সবচেয়ে সংঘাতপ্রবণ জেলা হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে কুমিল্লা ও লক্ষ্মীপুর।



পরিসংখ্যান অনুযায়ী— প্রতিদ্বন্দ্বী সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে ৫৫টি, প্রার্থীর ওপর হামলা হয়েছে ৬টি, ভীতি প্রদর্শন ও হুমকির সংখ্যা ১১টি, প্রচারে বাধা- ১৭টি, নির্বাচনী অফিসে হামলা ও অগ্নিসংযোগ- ৮টি, অবৈধ অস্ত্রের ব্যবহার- ২টি, সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা- ১টি, অবরোধ ও বিক্ষোভ ১০টি, অন্যান্য ঘটনা- ২৪টি, এসব নিয়েমোট ১৪৪টি সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে দেশে।



কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম, হোমনা ও কুমিল্লা সদরে ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও প্রার্থীর বহরে হামলার একাধিক ঘটনা ঘটেছে। লক্ষ্মীপুরেও চার দফা সংঘর্ষের খবর পাওয়া গেছে। এছাড়া পাবনা, বগুড়া, টাঙ্গাইল, চট্টগ্রাম, ঢাকা ও কক্সবাজারসহ অন্তত ১৫টি জেলায় উত্তেজনা চরমে।



বিশেষজ্ঞদের সতর্কবার্তা-



বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ওমর ফারুক গণমাধ্যমকে বলেন,  “নির্বাচনের দিন যত ঘনিয়ে আসবে, সহিংসতার মাত্রা তত বাড়বে। বিশেষ করে ‘টার্গেট কিলিং’ ও বিদ্রোহী প্রার্থীদের ঘিরে সংঘাতের ঝুঁকি বেশি। লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধার না হওয়ায় পরিস্থিতি আরও বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে।”



অন্যদিকে পুলিশের সাবেক আইজিপি মোহাম্মদ নুরল হুদা মনে করেন, পরিস্থিতি এখনও পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণের বাইরে যায়নি। তার ভাষায়, “গোয়েন্দা তথ্য ও আগাম খবর সংগ্রহের মাধ্যমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ সম্ভব। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে আরও বেশি অ্যালার্ট থাকতে হবে।”



আইএসপিআর জানায়, গত ১১ ডিসেম্বর থেকে এখন পর্যন্ত ১,৫০৭ জনকে গ্রেপ্তার, ১৫৩টি অস্ত্র ও ১,৮৩৪টি গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়েছে। রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশে বাড়ানো হয়েছে নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা নজরদারি। যৌথ বাহিনীর টহল ও অভিযান চলছে নিয়মিত। 



এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, “নির্বাচনী মাঠে কাউকেই আইন ভাঙতে দেওয়া হবে না। বেআইনি কর্মকাণ্ডে জড়িতদের কঠোরভাবে আইনের আওতায় আনা হবে।”


ভালোবাসা যে ভাষা, ধর্ম ও দেশের সীমানা মানে না—তারই এক জীবন্ত উদাহরণ নরসিংদীর মনোহরদী উপজেলার বড়চাপা ইউনিয়নের বাসিন্দা সুমি ও জার্মান নাগরিক মাইক, যিনি বর্তমানে ওমর ফারুক নামে পরিচিত।


২০১৯ সালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকের মাধ্যমে তাদের প্রথম পরিচয় হয়। ভিন্ন দেশ, ভাষা ও সংস্কৃতির হলেও ধীরে ধীরে তাদের মধ্যে গড়ে ওঠে বন্ধন, বিশ্বাস ও ভালোবাসা। সে সময় মাইক ছিলেন খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বী। তবে সুমির প্রতি গভীর ভালোবাসা এবং ইসলামের শান্তি, মানবিকতা ও জীবনদর্শনে অনুপ্রাণিত হয়ে তিনি স্বেচ্ছায় ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন। ইসলাম গ্রহণের পর নিজের নাম পরিবর্তন করে রাখেন ওমর ফারুক—যা তার জীবনের এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করে।


২০২০ সালে উভয় পরিবারের সম্মতিতে সুমি ও ওমর ফারুক বৈবাহিক বন্ধনে আবদ্ধ হন। ভালোবাসা, পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও বিশ্বাসের ভিত্তিতে শুরু হয় তাদের দাম্পত্য জীবন। বর্তমানে তাদের সংসারে রয়েছে চার বছর বয়সী এক সন্তান। ছোট্ট এই পরিবারটি কাটাচ্ছে শান্ত, সুখী ও পরিপূর্ণ জীবন।


দাম্পত্য জীবন ও বাংলাদেশে বসবাস নিয়ে ওমর ফারুক বলেন, “বাংলাদেশ আমাকে শুধু একটি দেশ দেয়নি, দিয়েছে এক নতুন পরিচয় ও নতুন জীবন।”


জার্মানির নাগরিক হয়েও বাংলাদেশের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, সবুজ পরিবেশ, গ্রামীণ জীবনের সরলতা এবং মানুষের আন্তরিকতায় তিনি মুগ্ধ। দেশীয় খাবার—ভাত, মাছ, ডালসহ নানা বাঙালি রান্না তার কাছে বিশেষ প্রিয় হয়ে উঠেছে। এ দেশের মাটি ও মানুষের ভালোবাসা তার হৃদয়ে স্থায়ী জায়গা করে নিয়েছে।


অন্যদিকে সুমি বলেন, “ভালোবাসা যদি সত্য হয়, তাহলে ধর্ম, দেশ কিংবা সংস্কৃতি কোনো বাধা হতে পারে না।”


সুমি ও ওমর ফারুকের এই জীবনকথা প্রমাণ করে—ভালোবাসা, মানবিকতা ও পারস্পরিক বিশ্বাসই পারে গড়ে তুলতে একটি সুন্দর, শান্তিময় ও স্থিতিশীল পরিবার।


সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলার
 ডিবি হাওরের লাল শাপলা পর্যটনের সৌন্দর্য হারাতে বসেছে কচুরিপানার আগ্রাসনে। উপজেলার সীমান্তঘেঁষা ডিবির হাওরের একাংশে অবস্থিত লাল শাপলা বিলে কচুরিপানার আগ্রাসনে এর সৌন্দর্য হুমকিতে রয়েছে বলে মনে করছেন পরিবেশ সংগঠকবৃন্দ। তারা অবিলম্বে এ বিলের নৈসর্গিক সৌন্দর্য রক্ষায় প্রতিবেশ পরিবেশের গুরুত্বের দিক বিবেচনা করে কচুরিপানার বিস্তার রোধ করে তা সংরক্ষণের দাবী জানান।

ধরিত্রী রক্ষায় আমরা (ধরা)। ধরা’র কেন্দ্রীয় উপদেষ্টামন্ডলীর সদস্য ও সিলেট কিডনি ফাউন্ডেশনের সভাপতি প্রফেসর ডা. জিয়া উদ্দিন আহমেদ-এর নেতৃত্বে পরিবেশ ও ঐতিহ্য সংরক্ষকদের একটি প্রতিনিধি দল শনিবার (২৪ জানুয়ারী ২০২৬ইং) সকালে ডিবির হাওর শাপলা বিল ও রাজা বিজয় সিংহের সমাধিসৌধ পরিদর্শন করেন। পরিদর্শন দলে অন্যান্যের মধ্যে ছিলেন জার্মান প্রবাসী লেখক ও ঐতিহ্য গবেষক সাকি চৌধুরী, মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটির উপাচার্য ও ধরা কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ জহিরুল হক, ধরা সিলেটের আহ্বায়ক ডা. মোস্তফা শাহজামান চৌধুরী ও সদস্য সচিব আব্দুল করিম কিম এবং পরিবেশ ও ঐতিহ্য সংরক্ষণ ট্রাস্টের অন্যতম ট্রাস্টি এডভোকেট গোলাম সোবাহান চৌধুরী।

পরিদর্শনকালে স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন জৈন্তিয়া ফটোগ্রাফি সোসাইটির সভাপতি মোঃ খায়রুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক  রেজওয়ান করিম সাব্বির ও সাংগঠনিক সম্পাদক আবুল হোসেন মোঃ হানিফ পরিদর্শক দলকে স্থানীয় উদ্যোগে গড়ে ওঠা ‘তরুছায়া প্রকল্প’ সম্পর্কে অবহিত করেন। এ প্রকল্পের অধীনে বিলের বিভিন্ন প্রান্তে প্রায় তিন হাজার গাছ লাগানো হয়েছে।

প্রায় দেড় ঘন্টা শাপলা বিল এলাকা পরিদর্শন শেষে পরিদর্শক দল বিলের সার্বিক অবস্থা সম্পর্কে সংবাদপত্রে প্রেরিত বিজ্ঞপ্তিতে বলেন, শাপলার বিলে কচুরিপানা যেভাবে বিস্তার লাভ করছে তাতে অচিরেই বিলের সার্বিক সৌন্দর্য ক্ষতিগ্রস্ত হবে। মতবিনিময়কালে ডিবির হাওরের রাস্তার পাশে রোপণকৃত কিছু গাছ স্থানীয় বাস্তুতন্ত্রের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ বলে অভিমত ব্যক্ত করা হয়। পরিদর্শনকালে রাজা বিজয় সিংহের সমাধিসৌধ সংরক্ষণের জন্য প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানানো হয় এবং শাপলা বিলের প্রাণপ্রকৃতি ও বাস্তুতন্তু সংরক্ষণের লক্ষ্যে কচুরিপানাসহ অন্যান্য প্রাণগত আগ্রাসন প্রতিরোধে নিয়মিত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়। এছাড়া প্রতিবেশ ও বাস্তুতন্তু বিবেচনায় এখানে হিজল, করচ, তাল, সুপারিসহ দেশীয় প্রজাতির বনজ, ফলজ ও ঔষধি গাছ লাগানোর ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

উল্লেখ্য ২০১০ সালের দিকে স্থানীয় অধিবাসীরা ডিবির হাওরের একাংশে ডিসেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারীর মধ্য পর্যন্ত ভোরের আলোয় ফুটন্ত লাল শাপলা ফুটতে দেখেন। ২০১৬ সালের দিকে স্থানীয় পর্যটকদের দৃষ্টি কাড়ে এ লাল শাপলার বিল। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম, প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার মাধ্যমে এ লাল শাপলা বিলের মুগ্ধতার সংবাদ ছড়িয়ে পড়ে দেশ বিদেশে। প্রতিবছরই বাড়তে থাকে পর্যটকদের আগমন। জৈন্তা-খাসিয়া পাহাড়ের পাদদেশে অবস্থিত শাপলা বিলের নৈসর্গিক  সৌন্দর্য উপভোগ করতে প্রতিবছর ডিসেম্বর ফেব্রুয়ারী মাসে সূর্য ওঠা থেকে শুরু করে সকাল ১০ টা পর্যন্ত পর্যটকদের ভিড় থাকে। শুক্র, শনিবারসহ ছুটির দিনে পর্যটকদের সংখ্যা বেড়ে যায় কয়েকগুন। অথচ এখানে পর্যটকদের জন্য কোনো সুযোগ সুবিধা গড়ে ওঠেনি।

পরিদর্শক দলের নেতৃবৃন্দ মনে করেন, এ লাল শাপলার বিলকে কেন্দ্র করে কেবল প্রাকৃতিক পর্যটন কেন্দ্র নয় বিকশিত হতে পারে ঐতিহ্যভিত্তিক পর্যটন শিল্পও। কারণ প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের পাশাপাশি বিলটি বহন করছে জৈন্তিয়ার রাজা বিজয় সিংহের স্মৃতি। ১৭৮৭ সালের দিকে জৈন্তিয়ার রাজা বিজয় সিংহকে হরফকাটা ও ডিবি বিলের মধ্যস্থল তথা কেন্দ্রী হাওরে ডুবিয়ে হত্যা করা হয়। আর এ স্থানেই প্রতিষ্ঠা করা হয় রাজা বিজয় সিং এর সমাধিসৌধ।

সিলেট ঐতিহ্য সংরক্ষণ ট্রাস্ট ও ধরিত্রী রক্ষায় আমরা(ধরা)র পরিদর্শক দল দু’শ বছরের পুরোনো সমাধি সৌধটি অযত্নে অবহেলায় পড়ে থাকতে দেখে মর্মাহত হন ও ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তাঁরা সমাধি সৌধটি সংরক্ষণের দাবী জানান। অচিরেই সিলেট ঐতিহ্য সংরক্ষণ ট্রাস্ট এর পক্ষ থেকে রাজা বিজয় সিং এর হৃদয় বিদারক প্রয়াণ ও এতদসংক্রান্ত অসম প্রেমের ইতিহাস সংক্ষিপ্ত ভাবে তুলে ধরতে বিল বোর্ড স্থাপন করবেন বলে জানান।

পরিদর্শকদল পর্যটকদের জন্য সুযোগ সুবিধা নিশ্চিতের পাশাপাশি শাপলা বিল ও এর চারপাশকে ময়লা আবর্জনামুক্ত রাখার উপর গুরুত্বারোপ করেন। এছাড়া পর্যটকদেরও দায়িত্বশীল আচরন প্রত্যাশা করেন।
ফেসবুকে আমরা

ভিডিও গ্যালারী

আরো ভিডিও দেখুন

 

 

সর্বশেষ প্রকাশিত সংবাদ আরো খবর