ঢাকা
খ্রিস্টাব্দ

রয়টার্সকে- শেখ হাসিনা / মৃত্যুদণ্ডের সাজা মাথায় নিয়ে ডিসেম্বরেই দেশে ফেরার পরিকল্পনা / গ্রেপ্তার কিংবা মেরেও ফেলার অজানা হুমকি স্বত্তেও- এই কঠিন সিদ্ধান্ত; বিএনপি-জামায়াত-এনসিপি’র প্রতিক্রিয়া
মৃত্যুদণ্ডের সাজা মাথায় নিয়ে ডিসেম্বরেই দেশে ফেরার পরিকল্পনা

গ্রাফিকঃ দৈনিক লাল সবুজ বাংলাদেশ।

মৃত্যুদণ্ডের সাজা মাথায় নিয়ে প্রায় দুই বছরের নির্বাসন শেষে আগামী ডিসেম্বরের দিকে দেশে ফেরার পরিকল্পনা করছেন বাংলাদেশের ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। দেশে ফিরে দলের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে নিয়ে তিনি স্বেচ্ছায় আদালতে আত্মসমর্পণ করবেন বলে জানিয়েছেন। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ৭৮ বছর বয়সী এই রাজনীতিক তার এই পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন। তিনি জানান, দেশে ফিরলে তাকে গ্রেপ্তার করা হতে পারে, এমনকি মেরেও ফেলা হতে পারে জেনেই তিনি ফেরার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

বিস্তারিত
রয়টার্সকে- শেখ হাসিনা / মৃত্যুদণ্ডের সাজা মাথায় নিয়ে ডিসেম্বরেই দেশে ফেরার পরিকল্পনা / গ্রেপ্তার কিংবা মেরেও ফেলার অজানা হুমকি স্বত্তেও- এই কঠিন সিদ্ধান্ত; বিএনপি-জামায়াত-এনসিপি’র প্রতিক্রিয়া
মৃত্যুদণ্ডের সাজা মাথায় নিয়ে ডিসেম্বরেই দেশে ফেরার পরিকল্পনা

গ্রাফিকঃ দৈনিক লাল সবুজ বাংলাদেশ।

মৃত্যুদণ্ডের সাজা মাথায় নিয়ে প্রায় দুই বছরের নির্বাসন শেষে আগামী ডিসেম্বরের দিকে দেশে ফেরার পরিকল্পনা করছেন বাংলাদেশের ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। দেশে ফিরে দলের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে নিয়ে তিনি স্বেচ্ছায় আদালতে আত্মসমর্পণ করবেন বলে জানিয়েছেন। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ৭৮ বছর বয়সী এই রাজনীতিক তার এই পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন। তিনি জানান, দেশে ফিরলে তাকে গ্রেপ্তার করা হতে পারে, এমনকি মেরেও ফেলা হতে পারে জেনেই তিনি ফেরার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

বিস্তারিত

মৃত্যুদণ্ডের সাজা মাথায় নিয়ে প্রায় দুই বছরের নির্বাসন শেষে আগামী ডিসেম্বরের দিকে দেশে ফেরার পরিকল্পনা করছেন বাংলাদেশের ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। দেশে ফিরে দলের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে নিয়ে তিনি স্বেচ্ছায় আদালতে আত্মসমর্পণ করবেন বলে জানিয়েছেন। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ৭৮ বছর বয়সী এই রাজনীতিক তার এই পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন। তিনি জানান, দেশে ফিরলে তাকে গ্রেপ্তার করা হতে পারে, এমনকি মেরেও ফেলা হতে পারে জেনেই তিনি ফেরার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

শেখ হাসিনার ভাষায়, ‘নেতাকর্মীরা চরম নিপীড়নের শিকার হচ্ছেন। যদি মৃত্যুও আসে, আমি চাই তা আমার নিজের মাটিতেই হোক, যেখানে আমার বাবা-মায়ের কবর রয়েছে এবং তাদের রক্ত ঝরেছে।’

২০২৪ সালের ৫ই আগস্ট বাংলাদেশে তীব্র গণআন্দোলনের মুখে পদত্যাগ করে দেশ ছাড়েন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর একটি সি-১৩০জে (C-130J) সামরিক বিমানে চড়ে ভারতের উত্তর প্রদেশের গাজিয়াবাদে অবস্থিত হিন্ডন বিমানঘাঁটিতে (Hindon Air Base) পৌঁছান সেখান থেকে ভারতের দিল্লিতে আশ্রয় নেন টানা চার মেয়াদে ক্ষমতায় থাকা এই প্রধানমন্ত্রী। এরপর থেকেই তাকে দেশে ফিরিয়ে আনতে ভারতের কাছে বারবার দাবি জানিয়ে আসছে ঢাকার বর্তমান সরকার। এ প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা বলেন, কর্তৃপক্ষ তাকে ফিরিয়ে নিতে চায় এবং এ জন্য ভারতকে বারবার চিঠি দিচ্ছে। তবে তিনি নিজেই দেশে ফিরে যাবেন। তার এই প্রত্যাবর্তনের বিষয়ে কোনো বিদেশি সরকারের সঙ্গে আলোচনা করেননি বলেও নিশ্চিত করেছেন তিনি।



দলের প্রায় সব স্তরের নেতাকর্মীদের নামে মামলা হয়েছে এবং অনেকেই আত্মগোপনে আছেন উল্লেখ করে শেখ হাসিনা জানান, তিনি দেশে ফিরে দলের সবাইকে একসঙ্গে নিয়ে আদালতে আত্মসমর্পণ করবেন। বিচার প্রক্রিয়া শুরু হলে বর্তমান আদালত কতটা 'প্রহসনমূলক', তা তিনি দেশের মানুষের সামনে প্রমাণ করতে চান। তবে ঠিক কবে বা কোন আদালতে তিনি আত্মসমর্পণ করবেন, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো তারিখ উল্লেখ করেননি। শেখ হাসিনার পাশাপাশি ভারতে নির্বাসিত আওয়ামী লীগের অন্যান্য শীর্ষ নেতারাও দেশে ফিরে আত্মসমর্পণ করবেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

দেশে ফেরার বিষয়ে ঢাকার সঙ্গে কোনো ধরনের যোগাযোগ হয়নি জানিয়ে ক্ষমতাচ্যুত এই প্রধানমন্ত্রী বলেন, গণতন্ত্র, ভোটাধিকার, রাজনৈতিক অধিকার বা ন্যায়বিচার নিয়ে কোনো গোপন আলোচনা হতে পারে না। দীর্ঘদিন দেশ পরিচালনার ক্ষেত্রে সরকারের ভুলত্রুটি হতে পারে স্বীকার করে তিনি বলেন, সরকারের ভালো-মন্দ বা ঠিক-ভুল বিচারের অধিকার কেবল জনগণের। সেই বিচারের ভার তিনি দেশের মানুষের ওপরই ছেড়ে দিতে চান।

বর্তমানে ভারতে বসে দল গোছানোর কাজ করছেন তিনি। আওয়ামী লীগকে পুনর্গঠিত করতে এরই মধ্যে দেশের ৩০০টি সংসদীয় আসনের মধ্যে ১২৫টির নেতাদের সঙ্গে তিনি অনলাইনে বৈঠক করেছেন। বাংলাদেশে বর্তমানে তার দল নিষিদ্ধ থাকার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, তাকে সাজা দেওয়া হতে পারে বা তিনি হয়তো নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না। কিন্তু তার দলকে কেন নিষিদ্ধ করা হবে? তারা যদি খারাপ কিছু করে থাকেন, তবে তার সিদ্ধান্ত জনগণই নেবে। জেলে যাওয়ার বিষয়ে কোনো ভয় নেই উল্লেখ করে তিনি জানান, আশির দশকে দেশে ফেরার পর এবং ২০০৭ সালেও তিনি কারাবরণ করেছিলেন।

গত বছরের (২০২৫ সালের) নভেম্বরে গণঅভ্যুত্থানে প্রাণহানির ঘটনায় শেখ হাসিনাকে তার অনুপস্থিতিতে মৃত্যুদণ্ড দেন আদালত। জাতিসংঘের একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওই আন্দোলনে প্রায় ১ হাজার ৪০০ মানুষের মৃত্যু হয়েছিল। তবে নির্বাসনে থাকা শেখ হাসিনা বরাবরই তার বিরুদ্ধে ওঠা এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন।

ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর শেখ হাসিনা এই প্রথমবার দেশে ফেরার কোনো সময়সীমা বা পরিকল্পনার কথা প্রকাশ্যে আনলেন। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, দুই বছরের রাজনৈতিক অস্থিরতা কাটিয়ে ঢাকা যখন স্থিতিশীলতা ফেরানোর চেষ্টা করছে, তখন শেখ হাসিনার এই সম্ভাব্য প্রত্যাবর্তন বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে মেরুকরণ তৈরি করতে পারে। একই সঙ্গে তার ভারতে অবস্থানের কারণে দুই দেশের মধ্যে যে কূটনৈতিক টানাপোড়েন তৈরি হয়েছিল, তার ফিরে আসার মধ্য দিয়ে সেই সমীকরণেও পরিবর্তন আসতে পারে। শেখ হাসিনার এই বক্তব্যের বিষয়ে বাংলাদেশ সরকার বা ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানা যায়নি।



হাসিনার অপরাধের ব্যাপারে আদালত সিদ্ধান্ত নেবে- বিএনপিঃ
প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও বিএনপি জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী গণমাধ্যমকে বলেন, "ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে ২০২৪ সালে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে হত্যাযজ্ঞের একটি মামলায় বিচার শেষে ঢাকায় আদালতে ফাঁসির রায় হয়েছে। আরও অনেক হত্যা মামলায় আদালতে তার বিচার চলছে।" এই বিচারের বিষয় উল্লেখ করে  রুহুল কবির রিজভী বলেন, "হাসিনার অপরাধের ব্যাপারে আদালত সিদ্ধান্ত নেবে।"

একইসঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী রিজভী বলেন, শেখ হাসিনা বা ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের নেতারা দেশে ফিরবেন কি, ফিরবেন না, বা তারা কী করবেন– সেটা তাদের বিষয়, তাদের দলীয় সিদ্ধান্তের বিষয়। তবে তাদের বিচার নিশ্চিত করার পক্ষে বিএনপি সরকারের অবস্থানের কথা উল্লেখ করেন রুহুল কবির রিজভী।

তিনি বলেন, "জুলাই আন্দোলনে উনি (শেখ হাসিনা) যে হত্যার মহাযজ্ঞ চালিয়েছেন, শিশু-কিশোরদেরও হত্যা করেছেন। সেই হত্যাযজ্ঞের বিচার নিশ্চিত হোক, সেটা জনগণ চায়। আদালতে বিচার চলছে। ফলে অপরাধের ব্যাপারে বিচার হবে এবং আদালত সিদ্ধান্ত নেবে।"

প্রসঙ্গত, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘঠিত হত্যাকাণ্ডসহ বিভিন্ন অপরাধের ক্ষেত্রে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ এনে ঢাকায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচার করা হচ্ছে।

এই ট্রাইব্যুনালে একটি মামলায় মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে শেখ হাসিনা ও তার সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খানের মৃত্যুদণ্ডের রায় হয়েছে গত বছরের ১৭ই নভেম্বর। ট্রাইব্যুনালে তার বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে আরও কয়েকটি মামলার বিচার প্রক্রিয়া চলছে।

শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময়ের ঘটনায় সারা দেশে ৬৬৩টি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে হত্যা মামলা রয়েছে ৪৫৩টি।

রয়টার্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা দেশে তার বিরুদ্ধে চলা বিচারের প্রক্রিয়া নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন। রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, "আমার মনে হয়, বিচার প্রক্রিয়া শুরু হলেই মানুষের কাছে স্পষ্ট হয়ে যাবে এই আদালত কতটা প্রহসনমূলক– আর আমি সেটাই প্রমাণ করতে চাই।"



ষড়যন্ত্র দেখছেন জামায়াত নেতারাঃ

শেখ হাসিনা দেশে ফেরার যে কথা বলছেন, এর পেছনে অন্তর্নিহিত কোনো রহস্য বা ষড়যন্ত্র থাকতে পারে বলে মনে করছেন জামায়াতে ইসলামীর নেতারা।


জামায়াত এখন জাতীয় সংসদে প্রধান বিরোধী দল। দলটির সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার গণমাধ্যমকে বলেছেন, "ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনার বক্তব্যের পেছনে একটা অন্তর্নিহিত রহস্য এবং ষড়যন্ত্র যেমন থাকতে পারে, সেখানে দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিরও কেউ কেউ এ ষড়যন্ত্রের অংশ হতে পারে।"


অভ্যন্তরীণ রাজনীতির ষড়যন্ত্র বলতে গোলাম পরওয়ার কী বোঝাতে চাইছেন, এর ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে তিনি বলেন, "বর্তমান সরকারের অভ্যন্তরের কোনো অংশ যে ওই ষড়যন্ত্রের সাথে নেই, এটা আমরা বিশ্বাস করি না।"


জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল এ-ও বলেন, "যদিও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে কড়া কথা বলছেন। কিন্তু আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসনের জন্য সরকারের কোনো অংশ পরিকল্পিতভাবে কাজ করে থাকতে পারে।"


এ ধরনের অভিযোগ তুললেও জামায়াত নেতা গোলাম পরওয়ার বলেন, দেশে ফেরার বিষয়ে শেখ হাসিনা রয়টার্সকে সাক্ষাৎকারে যে বক্তব্য দিয়েছেন, তার বিস্তারিত দেখার পরে তারা তাদের দলের রাজনৈতিক বক্তব্য দেবেন।


একইসঙ্গে মিয়া গোলাম পরওয়ারের বক্তব্য হচ্ছে, দেশের কোনো মামলায় অভিযুক্ত বা সাজাপ্রাপ্ত কেউ যদি স্বেচ্ছায় নিজেকে আইনের কাছে সোপর্দ করতে চায়, সেটা সে করতে পারে। আইনগত দিক থেকে বিষয়টাকে এভাবেই দেখেন তারা।


ফাঁসির রায় কার্যকর চায় এনসিপিঃ

ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ফাঁসির রায় কার্যকর হওয়ার জন্যই দেশে ফিরবেন বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, বাংলাদেশে রায় হয়ে গিয়েছে। এখন এই সরকারের উচিত যথাযথ কূটনৈতিক ও আইনি প্রক্রিয়ায় গণহত্যাকারীকে দেশে ফিরিয়ে এনে রায় কার্যকর করা। শুক্রবার রাজধানীর কাকরাইলে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে আন্তর্জাতিক ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি শিল্প বা উদ্যোগ (এমএসএমই) দিবস ২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভা ও সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানে নাহিদ ইসলাম এ কথা বলেন। 

বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ বলেন, ‘আজকে একটা ইন্টারভিউয়ে (বার্তা সংস্থা রয়টার্সে প্রকাশিত শেখ হাসিনার সাক্ষাৎকার) আমরা দেখেছি যে ডিসেম্বরে কেউ একজন দেশে ফেরার পরিকল্পনা করছেন। দেশ তো অলরেডি (ইতিমধ্যে) ১৬ বছরের ধ্বংসযজ্ঞের শিকার হয়েছে। এখন আমরাও চাই দেশে ফিরবেন, ফাঁসির রায় কার্যকর হওয়ার জন্য।’

শেখ হাসিনার দেশে ফেরা নিয়ে নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘এটা তো শেখ হাসিনা ঠিক করবেন না, তিনি কীভাবে আসবেন। তিনি কাদেরকে নিয়ে আসবেন, সারেন্ডার (আত্মসমর্পণ) করবেন কি করবেন না—এটা ঠিক করতে হবে বাংলাদেশ সরকারকে। বাংলাদেশ সরকার এটা নিয়ে কথা বলবে দিল্লির সঙ্গে, এখানে আর কোনো পক্ষ নাই। ফলে এটা সরকার ঠিক করবে—তাঁকে কখন আনবে, কীভাবে আনবে এবং কীভাবে বিচারের রায় কার্যকর করবে। সকল প্রস্তুতি নিয়েই তাঁকে আনতে হবে।’


শেখ হাসিনার প্রত্যাবর্তন বার্তা: সামাজিক মাধ্যমে তুমুল বিতর্ক ও জল্পনাঃ

বাংলাদেশ রাজনীতির প্রেক্ষাপটে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার ‘সরাসরি দেশে আসার খবর’ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি নতুন এবং অত্যন্ত আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই খবরটি ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই সামাজিক মাধ্যমগুলোতে তৈরি হয়েছে মিশ্র ও জোরালো প্রতিক্রিয়ার ঢেউ।

খবরটি প্রকাশের পরপরই আওয়ামী লীগের দলীয় নেতাকর্মী ও সমর্থকদের মাঝে ব্যাপক উচ্ছ্বাস দেখা গেছে। তারা অনেকেই তাদের ব্যক্তিগত টাইমলাইন এবং দলীয় গ্রুপগুলোতে সংবাদ মাধ্যমের ফটোকার্ড শেয়ার করে তাদের উচ্ছ্বাস প্রকাশ করছেন। দীর্ঘদিন পর তাদের নেত্রীর এই সরাসরি আসার খবর দলটির মধ্যে নতুন করে প্রাণসঞ্চার করেছে বলে মনে করা হচ্ছে।

অপরদিকে, ভিন্ন মতাবলম্বী, বিশেষ করে জুলাইয়ের ঘটনায় সক্রিয় ভূমিকা রাখা বিভিন্ন পক্ষের সমর্থকদের মাঝে এই খবরের প্রতিক্রিয়া অত্যন্ত নেতিবাচক। তারা শেখ হাসিনার প্রত্যাবর্তনকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন বিরূপ মন্তব্য ও আশঙ্কা প্রকাশ করছেন। অনেকেই মনে করছেন, এই প্রত্যাবর্তন রাজনৈতিক অস্থিরতা বা সংঘাতকে আরও উসকে দিতে পারে।

সামাজিক মাধ্যমে এই তুমুল প্রতিক্রিয়াগুলোর বাইরে, এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো— শেষ পর্যন্ত বাস্তবে কি ঘটবে? শেখ হাসিনা কি আসলেও দেশে ফিরবেন? আর ফিরলে তা বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক দৃশ্যপটকে কিভাবে পরিবর্তন করবে? এটি কি নতুন কোনো সংঘাতের সূচনা করবে নাকি অন্য কোনো রাজনৈতিক সমীকরণের দিকে নিয়ে যাবে— তা সময়ের সাথেই পরিষ্কার হবে। আপাতত সব চোখ এই প্রত্যাবর্তন বার্তার পরবর্তী ঘটনাবলীর দিকে।


ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সদস্য হিসেবে শপথ নিয়েছেন চট্টগ্রাম-২ আসনে বিএনপির বিজয়ী প্রার্থী সরোয়ার আলমগীর। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৭টায় জাতীয় সংসদ ভবনে স্পিকারের কার্যালয়ে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তাকে শপথবাক্য পাঠ করান জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম। শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালসহ মন্ত্রিসভার সদস্য ও সংসদ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে বৃহস্পতিবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-২ (ফটিকছড়ি) আসনে নির্বাচিত বিএনপির প্রার্থী সরোয়ার আলমগীরকে সংসদ সদস্য ঘোষণা করে গেজেট প্রকাশ করে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ইসির প্রশাসন শাখার সিনিয়র সহকারী সচিব (চ. দা.) এ এস এম ইকবাল হাসানের সই করা এক চিঠিতে এই তথ্য জানানো হয়।

চিঠিতে বলা হয়েছে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ২৭৯ চট্টগ্রাম-২ আসনে জাতীয় সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত প্রার্থীর নাম-ঠিকানা সংবলিত প্রজ্ঞাপন আজ (৯ জুলাই) বাংলাদেশ গেজেটের অতিরিক্ত সংখ্যায় প্রকাশ করা হয়েছে। চিঠির অনুলিপি সদয় অবগতি ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য মন্ত্রিপরিষদ সচিব, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব, পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি), বিভাগীয় কমিশনার (চট্টগ্রাম) এবং চট্টগ্রাম রেঞ্জের উপমহাপুলিশ পরিদর্শকসহ (ডিআইজি) ১৮টি গুরুত্বপূর্ণ দফতরে পাঠানো হয়েছে।

তারও আগে আজ জাতীয় সংসদের চট্টগ্রাম-২ (ফটিকছড়ি) আসনে বিএনপির নির্বাচিত প্রার্থী সরোয়ার আলমগীরের প্রার্থিতা বৈধ ঘোষণা করেন হাইকোর্ট।

মামলা সূত্রে জানা যায়, ঋণখেলাপির অভিযোগে নির্বাচন কমিশন প্রথমে সরোয়ার আলমগীরের মনোনয়নপত্র বাতিল করলে তিনি হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন। পরে হাইকোর্ট তার প্রার্থিতা পুনর্বহাল করে নির্বাচনে অংশ নেয়ার সুযোগ দেন। এই আদেশের বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী আপিল বিভাগে লিভ টু আপিল করলে আপিল বিভাগ সরোয়ার আলমগীরকে নির্বাচন করার সুযোগ বহাল রাখলেও রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত ফলাফল ও গেজেট প্রকাশ স্থগিত রাখার নির্দেশ দেন।

গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-২ আসনে সরোয়ার আলমগীর বিজয়ী হন। তবে আদালতের নির্দেশনার কারণে তার ফলাফল আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি এবং শপথ গ্রহণও স্থগিত ছিল। পরবর্তী সময়ে গত ১৬ জুন আপিল বিভাগ হাইকোর্টকে দ্রুত রুল নিষ্পত্তির নির্দেশ দেন। সেই নির্দেশনার পর আজ হাইকোর্ট চূড়ান্ত রায়ে সারোয়ার আলমগীরের প্রার্থিতা বৈধ ঘোষণা করা হয়।


স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে রাজনৈতিক দল, সুশীল সমাজ, নির্বাচন বিশ্লেষক ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে সংলাপের উদ্যোগ নিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। কোন স্তরের স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের নির্বাচন আগে অনুষ্ঠিত হবে—সিটি করপোরেশন, পৌরসভা, উপজেলা পরিষদ নাকি ইউনিয়ন পরিষদ—সে বিষয়ে মতামত নিয়ে গ্রহণযোগ্য সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে চায় কমিশন।


ইসি সূত্রে জানা গেছে, চলতি মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে সংলাপ শুরু করে আগস্টের মধ্যে তা শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে। সংলাপ শেষে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হতে পারে। এ লক্ষ্যে সংলাপের সম্ভাব্য তারিখ নির্ধারণে নির্বাচন কমিশন সচিবালয় প্রয়োজনীয় ফাইল উপস্থাপন করবে। কমিশনের অনুমোদন মিললে সংশ্লিষ্টদের কাছে আমন্ত্রণপত্র পাঠানো হবে।


দেশের অধিকাংশ স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান প্রায় দুই বছর ধরে জনপ্রতিনিধিশূন্য অবস্থায় রয়েছে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর থেকেই স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা জোরালো হয়েছে। নির্দলীয় এ নির্বাচনে অংশ নেওয়ার লক্ষ্যে ইতোমধ্যে কয়েকটি রাজনৈতিক দল সম্ভাব্য প্রার্থীর নামও ঘোষণা করেছে।


নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক নির্বাচন কমিশনের একজন সদস্য জানান, স্থানীয় সরকার নির্বাচনের আগে আচরণবিধি সংশোধনের কাজ চলছে। এই প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর নির্বাচন আয়োজনের সময়সূচি ও অগ্রাধিকার নির্ধারণ করা হবে।


তিনি বলেন, কোন স্তরের স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের নির্বাচন আগে হবে, সে বিষয়ে এখনো কমিশন চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়নি। তবে প্রয়োজন হলে বিভিন্ন অংশীজনের মতামত গ্রহণের জন্য সংলাপ আয়োজন করা হবে।


সব রাজনৈতিক দলকে সংলাপে আমন্ত্রণ জানানো হবে কি না—এ প্রশ্নের জবাবে ওই কমিশনার বলেন, বিষয়টি এখনো চূড়ান্ত হয়নি। তবে কমিশন প্রয়োজন মনে করলে বিভিন্ন পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করবে, কারণ একটি গ্রহণযোগ্য সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে অংশীজনদের মতামত গুরুত্বপূর্ণ।


ইসির কর্মকর্তারা জানান, প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রম শেষ করে আগামী তিন মাসের মধ্যে নির্বাচন আয়োজনের সক্ষমতা অর্জনের লক্ষ্য নিয়ে কাজ চলছে। একই সঙ্গে সরকারের সঙ্গেও নির্বাচন আয়োজনের ক্রম ও সময় নিয়ে আলোচনা হতে পারে।


বর্তমানে দেশের অধিকাংশ সিটি করপোরেশন, পৌরসভা, উপজেলা পরিষদ, জেলা পরিষদ ও ইউনিয়ন পরিষদের মেয়াদ শেষ হয়েছে। এ অবস্থায় সংশোধিত আচরণবিধির আওতায় স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি এগিয়ে নিচ্ছে সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানটি।


এদিকে স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নের জন্য মাঠপর্যায়ের তথ্য বিশ্লেষণ শুরু করেছে নির্বাচন কমিশন। রবিবার ইসি সচিবালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক বৈঠকে এ বিষয়ে প্রাথমিক আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।


নির্বাচন কমিশন ইতোমধ্যে দেশের ৪ হাজার ৫৮১টি ইউনিয়ন পরিষদ, ৬১টি জেলা পরিষদ, ৪৯৫টি উপজেলা পরিষদ, ৩৩০টি পৌরসভা এবং ১৩টি সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন পদের হালনাগাদ তথ্য সংগ্রহ করেছে। পাশাপাশি প্রতিটি স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের জন্য পৃথক আচরণবিধির খসড়া প্রস্তুত করা হয়েছে। এসব খসড়ার ওপর মতামত দেওয়ার সময়সীমা গত ৩০ জুন শেষ হয়েছে।


রবিবারের বৈঠকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের সার্বিক অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হয়। তবে এ বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক নির্দেশনা বা চিঠি নির্বাচন কমিশনের কাছে পৌঁছেনি।


নির্বাচন কমিশনার আবদুর রহমানেল মাছউদ বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রস্তুতিমূলক কাজ এগিয়ে চলছে। মাঠপর্যায়ের প্রয়োজনীয় তথ্য কমিশনের হাতে এসেছে এবং অক্টোবরকে লক্ষ্য ধরে কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।


দুই বছর বন্ধ থাকার পর অবশেষে বাংলাদেশিদের জন্য আবারও ট্যুরিস্ট বা পর্যটন ভিসা চালু করেছে ভারত। আর ভিসা চালুর এই ঘোষণা আসতেই দেশের ভারতীয় ভিসা কেন্দ্রগুলোতে উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। দীর্ঘ দুই বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে সেবা চালুর মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই ১ লাখ ৪০ হাজারেরও বেশি আবেদন জমা পড়েছে ভারতীয় ভিসা কেন্দ্রগুলোতে।

গত ২৮ জুন ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী দুই দেশের সম্পর্ক নতুন করে জোরদারের লক্ষ্যে ট্যুরিস্ট ভিসা পুনরায় চালুর এই ঘোষণা দেন। এরপরই ঢাকা, রাজশাহী, চট্টগ্রাম, সিলেট ও খুলনার পাঁচটি ভিসা কেন্দ্রের সামনে আবেদনকারীদের দীর্ঘ  লাইন তৈরি হয়। ঢাকার যমুনা ফিউচার পার্কের ভিসা কেন্দ্রের বাইরে গত তিন দিন ধরে এক কিলোমিটারেরও বেশি দীর্ঘ লাইন দেখা গেছে।

২০২৪ সালের আগস্টে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের চরম অবনতি ঘটে। সে সময় ভিসা কেন্দ্রগুলোতে হামলা ও কর্মীদের হুমকির মুখে ভারত ট্যুরিস্ট ভিসা সম্পূর্ণ স্থগিত করে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান মুহাম্মদ ইউনূসের আমলে পাকিস্তানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা এবং ভারত-বিরোধী মনোভাবের কারণে সম্পর্কের আরও অবনতি হয়।


গত বছরের ডিসেম্বরে ঢাকায় ইনকিলাব মঞ্চের নেতা ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ডের পর ভারতীয় দূতাবাসে উগ্র জনতার চড়াও হওয়ার চেষ্টার মাধ্যমে তা চরমে পৌঁছায়। বর্তমানে নতুন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের অধীনে পরিস্থিতি কিছুটা স্থিতিশীল হলেও অবৈধ অনুপ্রবেশ ও তিস্তার পানি বণ্টনের মতো অমীমাংসিত ইস্যুতে দুই দেশের মধ্যে এখনও শীতল ভাব বজায় রয়েছে।

তবে রাজনৈতিক এই টানাপোড়েন সত্ত্বেও দুই দেশের মধ্যকার গভীর সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও ভৌগোলিক বাস্তবতাকে এড়ানো অসম্ভব বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। সাশ্রয়ী চিকিৎসা, বিয়ের কেনাকাটা কিংবা পশ্চিমবঙ্গ, আসাম ও ত্রিপুরায় থাকা আত্মীয়দের সঙ্গে দেখা করার জন্য বাংলাদেশের মধ্যবিত্ত শ্রেণির কাছে ভারতই একমাত্র ভরসা।

আগে যেখানে প্রতি বছর ২০ লাখেরও বেশি বাংলাদেশি ভারতে যেতেন, ভিসা স্থগিতের পর ২০২৫ সালে সেই সংখ্যা নেমে আসে মাত্র ৪ লাখ ৭০ হাজারে, যাদের বেশিরভাগই গিয়েছিলেন সীমিত পরিসরে চালু থাকা মেডিকেল ভিসায়।

আগে ভারতের দেওয়া মোট মেডিকেল ভিসার ৭০ থেকে ৭৫ শতাংশই পেতেন বাংলাদেশিরা। সম্পর্ক খারাপ হওয়ায় বিকল্প হিসেবে অনেকে চীন, থাইল্যান্ড বা সিঙ্গাপুরে গেলেও মধ্যবিত্তের জন্য তা ছিল অত্যন্ত ব্যয়বহুল। ফলে ভাষা বা খাবারের কোনও বাধা না থাকা এবং বাংলাভাষী চিকিৎসকদের সহজলভ্যতার কারণে কলকাতা, চেন্নাই, দিল্লি বা ব্যাঙ্গালুরুর হাসপাতালগুলোই বাংলাদেশিদের প্রধান পছন্দ। মেডিকেল ভিসা পাওয়া কঠিন হওয়ায় অনেকেই এখন ট্যুরিস্ট ভিসা নিয়ে চিকিৎসার উদ্দেশ্যে ভারতে ছুটছেন।

ভিসা কেন্দ্রের লাইনে থাকা শফিকুল নামের এক আবেদনকারী জানান, অসুস্থ স্ত্রী ও মায়ের চিকিৎসার জন্য ট্যুরিস্ট ভিসা চালু হওয়াটা তার জন্য জীবনরক্ষাকারী সুযোগের মতো। অন্যদিকে এক সাধারণ আবেদনকারী বলেন, ভারত আমাদের প্রতিবেশী দেশ। আমাদের সম্পর্ক সব সময়ই উষ্ণ ছিল, মাঝে কিছু ভুল বোঝাবুঝি হয়েছে। কিন্তু বন্ধুত্ব বজায় রেখেই আমাদের এগিয়ে যেতে হবে।

ট্যুরিস্ট ভিসা পুনরায় চালুর এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের ব্যবসায়ীরাও। গত দুই বছরে কলকাতার নিউ মার্কেট ও সদর স্ট্রিট সংলগ্ন ‘মিনি বাংলাদেশ’ খ্যাত বাণিজ্যিক এলাকায় বাংলাদেশিদের আগমন কমে যাওয়ায় হোটেল ও রেস্তোরাঁ ব্যবসায় মন্দা দেখা দিয়েছিল। ২০২৪-২৫ সালের মধ্যে এই এলাকার ব্যবসায়ীদের প্রায় ১ হাজার কোটি রুপির ক্ষতি হয়েছে। নতুন এই সিদ্ধান্তের ফলে আবারও ব্যবসা চাঙ্গা হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

ফেসবুকে আমরা

ভিডিও গ্যালারী

আরো ভিডিও দেখুন

 

 

সর্বশেষ প্রকাশিত সংবাদ আরো খবর