ঢাকা
খ্রিস্টাব্দ

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ না খেললে কতটা আর্থিক ক্ষতির মুখে বিসিবি?

ম্যাচ ফি, বোনাস ও প্রাইজমানি হারানোর শঙ্কা—ভারতে বিশ্বকাপ না খেলার সিদ্ধান্তে বিসিবি ও খেলোয়াড়দের সামনে বড় আর্থিক প্রশ্ন
দৈনিক লাল সবুজ বাংলাদেশ

ক্রিড়া প্রতিবেদক | দৈনিক লাল সবুজ বাংলাদেশ
ঢাকা
শুক্রবার, ২৩ জানুয়ারি ২০২৬, ৭.৪২ অপরাহ্ন

আপডেট : শুক্রবার, ২৩ জানুয়ারি ২০২৬, ৭.৪২ অপরাহ্ন


নিউজটি দেখেছেনঃ 157953 জন

  • নিউজটি দেখেছেনঃ 157953 জন
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ না খেললে কতটা আর্থিক ক্ষতির মুখে বিসিবি?
গ্রাফিক- দৈনিক লাল সবুজ বাংলাদেশ।


আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) সঙ্গে একাধিক দফা বৈঠক, কূটনৈতিক টানাপোড়েন ও নানা নাটকীয়তার পর ভারতের মাটিতে অনুষ্ঠিতব্য টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) ও অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। যদিও বিসিবির পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত তারা লড়াই চালিয়ে যাবে, তবে বিশ্বকাপ শুরুর আর মাত্র দুই সপ্তাহ বাকি থাকায় সূচিতে কোনো বড় পরিবর্তন আনা সম্ভব নয় বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছে আইসিসি।

এই সিদ্ধান্ত কেবল ক্রিকেটীয় নয়—বাংলাদেশ ক্রিকেটের জন্য এটি বড় ধরনের আর্থিক ও বাণিজ্যিক সংকটও তৈরি করতে পারে। কারণ আইসিসির বৈশ্বিক ইভেন্টগুলোই ক্রিকেট বোর্ড ও ক্রিকেটারদের আয়ের অন্যতম প্রধান উৎস।

অংশগ্রহণ ফি থেকে শুরু, ক্ষতির পরিধি বড়:

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানাচ্ছে, টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশ নিলে বিসিবি, ক্রিকেটার, কোচিং স্টাফ ও ম্যানেজমেন্টের জন্য অংশগ্রহণ বাবদ প্রায় চার কোটি টাকা পাওয়ার কথা ছিল, যা ডলারের হিসাবে আনুমানিক ৩ লাখ মার্কিন ডলার। টুর্নামেন্টে ভালো করলে এই অঙ্ক আরও বাড়ার সুযোগ ছিল। সেরা ১২ দলের মধ্যে থাকতে পারলে কোনো দলের মোট আয় হতে পারত সাড়ে পাঁচ কোটিরও বেশি টাকা—ডলারে প্রায় ৪ লাখ ৫০ হাজার।

কিন্তু বাংলাদেশ যদি আনুষ্ঠানিকভাবে বিশ্বকাপ থেকে সরে দাঁড়ায়, তাহলে এই পুরো আয় থেকেই বঞ্চিত হবে বিসিবি।

সবচেয়ে বড় ধাক্কা ক্রিকেটারদের আয়ে:

বিশ্বকাপে না খেললে সবচেয়ে বেশি চাপ পড়বে জাতীয় দলের ক্রিকেটারদের ওপর। ম্যাচ ফি, পারফরম্যান্স বোনাস ও প্রাইজমানির সুযোগ হারাবেন তারা। বিসিবির নির্ধারিত কাঠামো অনুযায়ী, একটি আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেললে একজন বাংলাদেশি ক্রিকেটার সর্বনিম্ন আড়াই লাখ টাকা করে পান। বিশ্বকাপে ম্যাচ সংখ্যা বেশি হওয়ায় এই আয় ক্রিকেটারদের বার্ষিক আয়ের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে ওঠে।

বিশেষ করে যেসব ক্রিকেটারের আয়ের বড় অংশ নির্ভর করে জাতীয় দলের ম্যাচ ফি ও বোনাসের ওপর, তাদের ব্যক্তিগত আয়ে বড় ধরনের ঘাটতি তৈরি হতে পারে।

বিসিবির ক্ষতিও কম নয়:

বিসিবির ক্ষেত্রেও ক্ষতির অঙ্ক উল্লেখযোগ্য। আইসিসি থেকে অংশগ্রহণ ফি বাবদ ৩ থেকে ৫ লাখ মার্কিন ডলার পাওয়ার কথা ছিল, যা বাংলাদেশি টাকায় প্রায় চার থেকে ছয় কোটি টাকা। বাংলাদেশ বিশ্বকাপে অংশ না নিলে এই অর্থ আর পাওয়া যাবে না।

এছাড়া বাংলাদেশের ম্যাচ না থাকলে সম্প্রচার স্বত্ব ও স্পন্সরশিপ আয়েও ধাক্কার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা। ভারতীয় উপমহাদেশে বাংলাদেশের ম্যাচ সাধারণত ভালো দর্শক টানে। ফলে ম্যাচ কমে গেলে টিআরপি কমার শঙ্কা রয়েছে, যা বিজ্ঞাপনদাতা ও স্পন্সরদের আগ্রহ কমিয়ে দিতে পারে।

বিশ্বকাপের বাণিজ্যিক মূল্যেও প্রভাব?

সাবেক ক্রিকেটার ও ধারাভাষ্যকারদের অনেকেই মনে করছেন, বাংলাদেশের মতো একটি বড় বাজারের দল অংশ না নিলে টুর্নামেন্টের সামগ্রিক বাণিজ্যিক মূল্যও কিছুটা কমতে পারে। বিশেষ করে দক্ষিণ এশিয়ার দর্শকদের মধ্যে বাংলাদেশের ম্যাচগুলোর আলাদা আগ্রহ থাকে।

এর আগে ২০২৪ সালের আইসিসি পুরুষ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে প্রাইজমানির অঙ্ক ছিল ইতিহাসে সর্বোচ্চ। রানার্সআপ দল পেয়েছিল অন্তত ১২ লাখ ৮০ হাজার ডলার, সেমিফাইনালে বাদ পড়া দলগুলো পেয়েছিল ৭ লাখ ৮৭ হাজার ৫০০ ডলার করে। এমন বড় অঙ্কের প্রাইজমানির টুর্নামেন্ট থেকে সরে দাঁড়ালে মাঠের বাইরের আর্থিক হিসাবও সামনে চলে আসছে।

সিদ্ধান্তের সামনে প্রশ্ন:

ভারতে বিশ্বকাপ না খেলার সিদ্ধান্ত নিয়ে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক বার্তা থাকলেও, এর আর্থিক অভিঘাত যে গভীর—তা মানছেন সংশ্লিষ্ট অনেকেই। এখন প্রশ্ন একটাই—এই ক্ষতি কীভাবে সামাল দেবে বিসিবি, আর এর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব কতটা পড়বে বাংলাদেশ ক্রিকেটে? 

বিশ্বকাপের মাঠে না নামলেও, মাঠের বাইরের এই আর্থিক হিসাবই আপাতত বড় বাস্তবতা হয়ে দাঁড়িয়েছে।


নিউজটি পোস্ট করেছেনঃ এলএসবিডি/এনকেডি

কমেন্ট বক্স
বাংলাদেশ | ক্রীড়াঙ্গণ
দৈনিক লাল সবুজ বাংলাদেশ

ক্রিড়া প্রতিবেদক | দৈনিক লাল সবুজ বাংলাদেশ
ঢাকা
শুক্রবার, ২৩ জানুয়ারি ২০২৬, ৭.৪২ অপরাহ্ন
আপডেট : শুক্রবার, ২৩ জানুয়ারি ২০২৬, ৭.৪২ অপরাহ্ন