ঢাকা
খ্রিস্টাব্দ

বাংলাদেশের বাকস্বাধীনতা ও মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে জাতিসংঘের গভীর উদ্বেগ

দৈনিক লাল সবুজ বাংলাদেশ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক প্রতিবেদক | দৈনিক লাল সবুজ বাংলাদেশ
ঢাকা
সোমবার, ১২ জানুয়ারি ২০২৬, ৩.৫৮ অপরাহ্ন

আপডেট : সোমবার, ১২ জানুয়ারি ২০২৬, ৩.৫৮ অপরাহ্ন


নিউজটি দেখেছেনঃ 239871 জন

  • নিউজটি দেখেছেনঃ 239871 জন
বাংলাদেশের বাকস্বাধীনতা ও মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে জাতিসংঘের গভীর উদ্বেগ

বাংলাদেশে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এখনো সীমিত এবং মানবাধিকার সুরক্ষায় যথেষ্ট চ্যালেঞ্জ রয়েছে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘ। সংস্থাটির মতে, সন্ত্রাসবিরোধী ও বিশেষ আইনের অপব্যবহার, ‘অপারেশন ডেভিল হান্ট’-এর আওতায় ঢালাও গ্রেপ্তার এবং ভিন্নমত দমনের চেষ্টা বর্তমান পরিস্থিতির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। মানবাধিকার কর্মী ও আইনজীবীরাও এই পরিস্থিতিতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।


জাতিসংঘ বলছে, বাংলাদেশে মত প্রকাশের স্বাধীনতা এখনও সীমিত। আর আইনজীবী ও মানবাধিকার কর্মীদের অভিযোগ, দ্বিমত ঠেকাতে সন্ত্রাসবিরোধী ও বিশেষ আইনের অপব্যবহার করা হচ্ছে। এ ছাড়া অপারেশন ডেভিল হান্টের অধীনে ঢালাও গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। এমন পদক্ষেপে সরকারের দুর্বলতা প্রকাশ পায়, বলছেন তাঁরা। এদিকে পুলিশের দাবি, সন্ত্রাসী তৎপরতায় জড়িত এবং অভিযুক্তদেরই কেবল গ্রেপ্তার করা হচ্ছে।


গত ফেব্রুয়ারিতে বিচার, মানবাধিকার ও বাক স্বাধীনতা নিশ্চিতে ৪০টি সুপারিশ দেয় জাতিসংঘের ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং মিশন।


সংস্থাটি বলছে, অন্তর্বর্তী সরকার বেশ কিছু সংস্কার করলেও মানবাধিকার ও বাক স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে পারেনি। সন্ত্রাস বিরোধীসহ একাধিক নতুন আইন ব্যবহার করে দ্বিমতকে চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি করা হয়েছে। ই-মেইল যোগাযোগে এসব কথা বলে জাতিসংঘ।


বিশ্লেষকদের দাবি, মানবাধিকার পরিস্থিতি সন্তোষজনক করতে এ খাতে সংস্কার এখনও উপেক্ষিত।


সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী সারা হোসেন বলেন, “এখন অনেক ধরনের মামলা আসছে যেখানে মনে হচ্ছে না সেগুলো আসলে স্বচ্ছভাবে দেখা হচ্ছে। সেখানে মনে হচ্ছে নতুন ধরনের ভয় আছে। বিশেষ করে ঢালাও মামলার ব্যাপারে। বিশেষ করে নির্যাতন রোধের ব্যাপারে। যেখানে আমরা সেরকম উদ্যোগ দেখছি না এবং এ ধরনের সুপারিশকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে না।”


মানবাধিকার কর্মী নূর খান লিটন বলেন, “স্পেশাল পাওয়ার অ্যাক্ট অথবা সন্ত্রাসবিরোধী আইনের অপব্যবহার বর্তমান পরিস্থিতিতে আরও ভালরানেবল করে তুলছে। অর্থাৎ মানবাধিকার পরিস্থিতি ক্রমান্বয়ে খারাপের দিকে যাচ্ছে। সন্ত্রাসবিরোধী আইনটা প্রয়োগ করার মত যৌক্তিক কারণ আমি দেখছি না। এটি সরকারের দুর্বলতার একটি উৎকৃষ্ট প্রমাণ।”


জাতিসংঘ বলছে, সাংবাদিক, বিরোধী রাজনৈতিক কর্মী ও গুমের শিকার ব্যক্তিরা এখনও ভিত্তিহীন অভিযোগে গ্রেপ্তার হচ্ছে। সমালোচনা রয়েছে, অপারেশন ডেভিল হান্টে সাড়ে ১৪ হাজার ব্যক্তিকে আটক নিয়েও।  


সারা হোসেন আরও বলেন, ‘কারও বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ নেই। কে কোন দল করে বা তাঁর কোন একটা মতাদর্শ আছে সে জন্য তাকে আটক করা হবে এটা তো চলতে পারে না।’


নূর খান লিটন আরও বলেন, ‘মানুষের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দেওয়া হচ্ছে। একই সময়ে একাধিক জায়গায় একই ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা হওয়া। সামনে নির্বাচন এবং এই পরিস্থিতিতে আরও খারাপ হওয়ারই সম্ভাবনা বেশি।’


পুলিশের মুখপাত্র এএইচএম শাহাদাত হোসাইন বলেন, ‘সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যারা যুক্ত, যারা করতে পারে বা যারা অতীতে এই ধরনের কর্মকাণ্ড করেছে আমরা তাদেরই গ্রেপ্তার করেছি।’


নিউজটি পোস্ট করেছেনঃ এলএসবিডি/এনকেডি

কমেন্ট বক্স
বাংলাদেশ | সারা বিশ্ব
দৈনিক লাল সবুজ বাংলাদেশ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক প্রতিবেদক | দৈনিক লাল সবুজ বাংলাদেশ
ঢাকা
সোমবার, ১২ জানুয়ারি ২০২৬, ৩.৫৮ অপরাহ্ন
আপডেট : সোমবার, ১২ জানুয়ারি ২০২৬, ৩.৫৮ অপরাহ্ন