দীর্ঘ দুই দশকের বেশি সময় পর চট্টগ্রামে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর অন্যতম বৃহৎ রাজনৈতিক কর্মসূচি। আগামী ২৫ জানুয়ারি ঐতিহাসিক পলোগ্রাউন্ড মাঠে বিএনপির ঘোষিত নির্বাচনী মহাসমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানের। এই জনসমাবেশকে কেন্দ্র করে চট্টগ্রাম মহানগরজুড়ে বিশেষ ও কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি)।
জনশৃঙ্খলা, শান্তি ও নাগরিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আগামী ২৪ ও ২৫ জানুয়ারি মহানগর এলাকায় অস্ত্র, বিস্ফোরক দ্রব্য, ইট-পাথর বহন ও অননুমোদিত ড্রোন উড্ডয়ন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) সিএমপি কমিশনার হাসিব আজিজ স্বাক্ষরিত এক গণবিজ্ঞপ্তিতে এ নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ অধ্যাদেশ, ১৯৭৮-এর ২৯ ধারার ক্ষমতাবলে কোনো ব্যক্তি অস্ত্রশস্ত্র, তলোয়ার, বর্শা, বন্দুক, ছোরা, লাঠি, বিস্ফোরক দ্রব্য কিংবা ইট-পাথর বহন ও ব্যবহার করতে পারবে না।
এছাড়া রাষ্ট্রের নিরাপত্তাবিরোধী কোনো বস্তু প্রদর্শন, উসকানিমূলক ব্যানার-প্ল্যাকার্ড বহন ও ব্যবহারও নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
গণবিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, ড্রোন নিবন্ধন ও উড্ডয়ন নীতিমালা-২০২০-এর ৯ ও ১৩ ধারার আলোকে জনসমাবেশস্থল ও আশপাশের এলাকায় অননুমোদিত ড্রোন উড্ডয়ন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকবে। আদেশ অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।
বিএনপি সূত্র জানায়, কর্মসূচিতে যোগ দিতে তারেক রহমান একদিন আগেই চট্টগ্রামে পৌঁছাবেন। সর্বশেষ ২০০৫ সালে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের সময় তিনি নগরীতে এসেছিলেন। সে সময় লালদিঘী ময়দানে এক বিশাল জনসভায় বক্তব্য দেন তিনি।
দীর্ঘ ২১ বছর পর তার চট্টগ্রাম আগমন বিএনপির রাজনীতিতে নতুন গতি সঞ্চার করেছে বলে মনে করছেন দলীয় নেতাকর্মীরা। নগর ও জেলার বিভিন্ন থানা-পাড়া-মহল্লায় চলছে প্রস্তুতি সভা, পোস্টার-ফেস্টুন ও মিছিল।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, চলমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চট্টগ্রামে তারেক রহমানের এই জনসমাবেশ বিএনপির জন্য কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি শুধু একটি নির্বাচনী কর্মসূচিই নয়, বরং দলীয় শক্তি প্রদর্শন ও সাংগঠনিক পুনর্জাগরণের বার্তা হিসেবেও দেখা হচ্ছে।
সিএমপি সূত্র জানিয়েছে, সমাবেশ ঘিরে মাঠ ও আশপাশের এলাকায় থাকবে সিসিটিভি নজরদারি, চেকপোস্ট, গোয়েন্দা তৎপরতা এবং অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন। যেকোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা এড়াতে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে থাকবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী গণমাধ্যমকে বলেন, আগামী শনিবার রাতে তারেক রহমান চট্টগ্রামে পৌঁছাবেন এবং সেদিন রাতেই নগরে অবস্থান করবেন। পরদিন বেলা ১১টায় পলোগ্রাউন্ড মাঠে তিনি বক্তব্য দেবেন। তারেক রহমানের এই বক্তব্যকে কেন্দ্র করে চট্টগ্রাম নগরসহ বিভিন্ন উপজেলা থেকে বিপুলসংখ্যক মানুষের আগমন ঘটবে। তিনি আরও বলেন, এটি কোনো রাজনৈতিক দলীয় সমাবেশ নয়। তারেক রহমানের আগমনকে কেন্দ্র করে চট্টগ্রামে দলমত–নির্বিশেষে সর্বস্তরের মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত জনসমাগম হবে। এখানে শুধু বিএনপির নেতা–কর্মী নয়, সাধারণ মানুষও অংশ নেবেন। বিএনপির স্থায়ী কমিটির এই সদস্য বলেন, তারেক রহমানের এই সফর কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক কর্মসূচির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। বরং এটি জনগণের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ স্থাপনের একটি গুরুত্বপূর্ণ উপলক্ষ। দীর্ঘদিন পর তারেক রহমান চট্টগ্রামে আসছেন—এই বিষয়টি সাধারণ মানুষের মাঝেও আলাদা আবেগ ও আগ্রহের জন্ম দিয়েছে। আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, চট্টগ্রামে এর আগে অনেক সমাবেশ হয়েছে, কিন্তু এবারের সমাগম হবে ব্যতিক্রম। দীর্ঘদিন পর তারেক রহমান নিজে চট্টগ্রামে এসে কথা বলবেন—এটি মানুষ ভিন্নভাবে গ্রহণ করছে। এটি কোনো একক দলের কর্মসূচি নয়, এটি একটি জনসম্পৃক্ত আয়োজন।
দীর্ঘদিন পর দলের শীর্ষ নেতার সরাসরি উপস্থিতিকে ঘিরে চট্টগ্রামের বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ ও উদ্দীপনা বিরাজ করছে। অনেকেই এটিকে “রাজনৈতিকভাবে ঐতিহাসিক মুহূর্ত” বলে আখ্যায়িত করছেন।