আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া গণভোটকে কেন্দ্র করে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য কঠোর নির্দেশনা জারি করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। নির্দেশনায় বলা হয়েছে, প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিয়োজিত কোনো ব্যক্তি গণভোটে ‘হ্যাঁ’ অথবা ‘না’-এর পক্ষে কোনো ধরনের প্রচার-প্রচারণায় অংশ নিতে পারবেন না।
বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) নির্বাচন কমিশন সচিবালয় থেকে এ সংক্রান্ত একটি বিশেষ নির্দেশনা জারি করা হয়। নির্দেশনায় উল্লেখ করা হয়, গণভোট অধ্যাদেশ, ২০২৫-এর ধারা ২১ এবং গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও), ১৯৭২-এর অনুচ্ছেদ ৮৬ অনুযায়ী সরকারি কর্মকর্তারা জনগণকে গণভোট বিষয়ে অবহিত বা সচেতন করতে পারবেন। তবে তারা কোনোভাবেই কোনো নির্দিষ্ট পক্ষের পক্ষে ভোট প্রদানের আহ্বান জানাতে পারবেন না।
নির্দেশনায় আরও বলা হয়, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কোনো পক্ষের হয়ে প্রচারণা বা কার্যক্রম গণভোটের ফলাফলকে প্রভাবিত করতে পারে। এ ধরনের কর্মকাণ্ড নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতার পরিপন্থী। কেউ যদি এ নির্দেশ অমান্য করে ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’-এর পক্ষে প্রচারণায় যুক্ত হন, তবে তা প্রচলিত আইন অনুযায়ী দণ্ডনীয় অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে।
নির্দেশনাটি মাঠপর্যায়ে কার্যকরভাবে বাস্তবায়নের জন্য বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক (ডিসি), আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা, রিটার্নিং কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট সকল কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এছাড়া বিষয়টি অবহিতকরণ ও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নির্দেশনার অনুলিপি মন্ত্রিপরিষদ সচিব ও প্রধান উপদেষ্টার মুখ্য সচিব, সকল মন্ত্রণালয় ও বিভাগ, বাংলাদেশ পুলিশ, র্যাব, বিজিবি, আনসার ও ভিডিপিসহ সব আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে পাঠানো হয়েছে।
নির্বাচন কমিশনের এই নির্দেশনাকে আসন্ন গণভোটে প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করার গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।