ঢাকা
খ্রিস্টাব্দ

বাড়ছে সংঘর্ষ, ছড়াচ্ছে আতঙ্ক

তফসিলের পর রাজনীতিতে রক্তাক্ত উত্তাপ

দেশের ২৫ জেলা ও ৩ মহানগরে ১৪৪ নির্বাচনী সহিংসতা, নিহত ৪
দৈনিক লাল সবুজ বাংলাদেশ

অনলাইন ডেস্ক প্রতিবেদক | দৈনিক লাল সবুজ বাংলাদেশ
ঢাকা
সোমবার, ০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৪.১৮ অপরাহ্ন

আপডেট : সোমবার, ০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৪.২০ অপরাহ্ন


নিউজটি দেখেছেনঃ 49129 জন

  • নিউজটি দেখেছেনঃ 49129 জন
তফসিলের পর রাজনীতিতে রক্তাক্ত উত্তাপ
-- তফসিলের পর রাজনীতিতে রক্তাক্ত উত্তাপ। গ্রাফিক- দৈনিক লাল সবুজ বাংলাদেশ।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর থেকেই দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে ক্রমেই উত্তাপ বাড়ছে। প্রচার-প্রচারণা শুরুর সঙ্গে সঙ্গে সেই উত্তেজনা এখন রূপ নিয়েছে সহিংসতায়। জনসভা, গণসংযোগ ও নির্বাচনী কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া, হামলা ও প্রাণহানির ঘটনা উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে।



তফসিল ঘোষণার পর থেকে এখন পর্যন্ত দেশে চারটি রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ডসহ অন্তত ১৪৪টি সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। শেরপুর, গাজীপুর ও ময়মনসিংহে প্রাণহানির ঘটনাগুলো জনমনে গভীর আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তথ্যমতে, এসব সহিংসতার বড় অংশই ঘটছে প্রতিদ্বন্দ্বী ও বিদ্রোহী প্রার্থীদের সমর্থকদের মধ্যে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে।



শেরপুরে ইশতেহার পাঠ অনুষ্ঠানে প্রাণহানি:



গত ২৮ জানুয়ারি শেরপুরের শ্রীবরদী উপজেলায় নির্বাচনী ইশতেহার পাঠ অনুষ্ঠানে চেয়ারে বসাকে কেন্দ্র করে বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এতে জামায়াতে ইসলামীর উপজেলা সেক্রেটারি মাওলানা রেজাউল করিম নিহত হন।



একই দিন ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলায় বিএনপির দুই পক্ষের মধ্যে ঘণ্টাব্যাপী ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এছাড়া গত মঙ্গলবার রাতে চট্টগ্রাম নগরীর খুলশী থানার আমবাগান এলাকায় বিএনপি ও জামায়াতের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়।



গাজীপুরে প্রার্থীর ওপর হত্যাচেষ্টার অভিযোগ:



গতকাল রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) সকালে গাজীপুর-২ আসনে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী আলী নাছের খানকে গাড়িচাপা দিয়ে হত্যাচেষ্টা ও হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় নির্বাচন কমিশনের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। একই ঘটনায় এনসিপির গাজীপুর জেলা সদস্যসচিব আল আমিন আহত হয়েছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।



এদিকে তফসিল ঘোষণার মাত্র ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি গুলিবিদ্ধ হন। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।



নির্বাচনী সহিংসতায় এখন পর্যন্ত নিহত চারজন হলেন—



(১) ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক- শরিফ ওসমান হাদি (ঢাকা, পল্টন), (২) জামায়াতে ইসলামীর নেতা- মাওলানা রেজাউল করিম (শেরপুর), (৩) জাসাস নেতা- ফরিদ সরকার (গাজীপুর, শ্রীপুর), (৪) স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থক- মো. নজরুল ইসলাম (ময়মনসিংহ, ধোবাউড়া),



সহিংসতার বিস্তৃতি ও পরিসংখ্যান-



আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদরদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২৫টি জেলা ও তিনটি মহানগরে এই সহিংসতা ছড়িয়ে পড়েছে। সবচেয়ে সংঘাতপ্রবণ জেলা হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে কুমিল্লা ও লক্ষ্মীপুর।



পরিসংখ্যান অনুযায়ী— প্রতিদ্বন্দ্বী সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে ৫৫টি, প্রার্থীর ওপর হামলা হয়েছে ৬টি, ভীতি প্রদর্শন ও হুমকির সংখ্যা ১১টি, প্রচারে বাধা- ১৭টি, নির্বাচনী অফিসে হামলা ও অগ্নিসংযোগ- ৮টি, অবৈধ অস্ত্রের ব্যবহার- ২টি, সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা- ১টি, অবরোধ ও বিক্ষোভ ১০টি, অন্যান্য ঘটনা- ২৪টি, এসব নিয়েমোট ১৪৪টি সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে দেশে।



কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম, হোমনা ও কুমিল্লা সদরে ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও প্রার্থীর বহরে হামলার একাধিক ঘটনা ঘটেছে। লক্ষ্মীপুরেও চার দফা সংঘর্ষের খবর পাওয়া গেছে। এছাড়া পাবনা, বগুড়া, টাঙ্গাইল, চট্টগ্রাম, ঢাকা ও কক্সবাজারসহ অন্তত ১৫টি জেলায় উত্তেজনা চরমে।



বিশেষজ্ঞদের সতর্কবার্তা-



বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ওমর ফারুক গণমাধ্যমকে বলেন,  “নির্বাচনের দিন যত ঘনিয়ে আসবে, সহিংসতার মাত্রা তত বাড়বে। বিশেষ করে ‘টার্গেট কিলিং’ ও বিদ্রোহী প্রার্থীদের ঘিরে সংঘাতের ঝুঁকি বেশি। লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধার না হওয়ায় পরিস্থিতি আরও বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে।”



অন্যদিকে পুলিশের সাবেক আইজিপি মোহাম্মদ নুরল হুদা মনে করেন, পরিস্থিতি এখনও পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণের বাইরে যায়নি। তার ভাষায়, “গোয়েন্দা তথ্য ও আগাম খবর সংগ্রহের মাধ্যমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ সম্ভব। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে আরও বেশি অ্যালার্ট থাকতে হবে।”



আইএসপিআর জানায়, গত ১১ ডিসেম্বর থেকে এখন পর্যন্ত ১,৫০৭ জনকে গ্রেপ্তার, ১৫৩টি অস্ত্র ও ১,৮৩৪টি গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়েছে। রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশে বাড়ানো হয়েছে নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা নজরদারি। যৌথ বাহিনীর টহল ও অভিযান চলছে নিয়মিত। 



এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, “নির্বাচনী মাঠে কাউকেই আইন ভাঙতে দেওয়া হবে না। বেআইনি কর্মকাণ্ডে জড়িতদের কঠোরভাবে আইনের আওতায় আনা হবে।”


নিউজটি পোস্ট করেছেনঃ এলএসবিডি/এনকেডি

কমেন্ট বক্স
বাংলাদেশ | জাতীয়
দৈনিক লাল সবুজ বাংলাদেশ

অনলাইন ডেস্ক প্রতিবেদক | দৈনিক লাল সবুজ বাংলাদেশ
ঢাকা
সোমবার, ০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৪.১৮ অপরাহ্ন
আপডেট : সোমবার, ০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৪.২০ অপরাহ্ন