চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে মডেল টেস্ট সম্পন্ন হয়েছে। এতে উপজেলার ১৯১ টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করে। ১৩ ও ১৬ নভেম্বর দুইদিন সকাল-বিকাল এই পরীক্ষা নেয় কর্তৃপক্ষ।
জানা যায়, ওএমআর শীটে বৃত্ত ভরাট সম্পর্কে ধারণা দেয়া, পরীক্ষা ভীতি দূর করা, বৃত্তি পরীক্ষার প্রশ্নের কাঠামো অনুযায়ী প্রস্তুতিকে এগিয়ে নিতে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের নির্দেশনা মোতাবেক এই পরীক্ষার আয়োজন করা হয়। এতে প্রত্যেক স্কুলের বাছাইকৃত শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করে।
প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, ১৯১ টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পরীক্ষার্থীদের ক্লাস্টার ভিত্তিক ৯টি কেন্দ্রে পরীক্ষা নেয়া হয়। মোট পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল ১৩৫১ জন।
ব্যায়ের খাত সমূহ সম্পর্কে জানা যায়, প্রশ্নপত্র একত্রীকরণ, প্রশ্নপত্র প্রণয়ন, প্রশ্নপত্র ছাপানো, কেন্দ্র ভিত্তিক প্যাকেট করণ, রঙিন ওএমআর শীট এবং মূল খাতা ৪ সেট (প্রতি শিক্ষার্থী) তৈরি, লুজ (অতিরিক্ত) খাতা, কেন্দ্রে উত্তরপত্র ও প্রশ্নপত্র পরিবহণ, কক্ষ পরিদর্শকের যাতায়াত সম্মানী, পরীক্ষক ও নিরীক্ষকের সম্মানী, কেন্দ্র খরচ ইত্যাদি। এছাড়া কোনো শিক্ষার্থী ফি বহন করতে না পারলে বিদ্যালয়কে তার ফি ব্যবস্থা করতে বলা হয়। ফাইনাল পরীক্ষার আদলে ৯টি কেন্দ্রে পরীক্ষার আয়োজন করে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস।
কয়েকটি কেন্দ্রে মডেল টেস্টের বিষয়ে অভিভাবকদের সাথে কথা বললে তারা এই পরীক্ষা নেওয়াকে সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত হিসেবে অভিহিত করেন। ব্যাখায় তারা (অভিভাবকগণ) বলেন, এই মডেল টেস্ট (ওএমআর পদ্ধতিতে) শিক্ষার্থীদের জন্য নতুন হওয়ায় এবং নিজের স্কুল থেকে অন্য কেন্দ্রে পরীক্ষায় অংশ নেওয়াতে ফাইনাল পরীক্ষায় জড়তা দূর হতে সহায়ক হবে। এবং পরীক্ষা সংশ্লিষ্ট সবকিছুতে সন্তোষ প্রকাশ করেন।
এই পরীক্ষার বিষয়ে বামন সুন্দর ক্লাস্টারের কেন্দ্র সচিবের দায়িত্বে থাকা মিঠানালা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক তপন ধুম জানান, ৫ম শ্রেণির ১ম প্রান্তিক মূল্যায়নে প্রাপ্ত নম্বরের ভিত্তিতে শিক্ষার্থী বাছাই করা হয়। ওএমআর শীটে বৃত্ত ভরাট শিক্ষার্থীদের জন্য সম্পূর্ণ নতুন। এই মডেল টেস্ট শিক্ষার্থীদের প্রস্তুতির জন্য খুবই ইতিবাচক একটি সিদ্ধান্ত।
গনকছরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও চিনকিআস্তানা পরীক্ষা কেন্দ্রের সচিব মো. সাইফুদ্দিন মীর শাহীন বলেন, মডেল টেস্টের ব্যাপারে কারো কোনো অভিযোগ নেই। পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়েছে।
পূর্ব পরাগলপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও জোরারগঞ্জ কেন্দ্রের সচিব ইসরাত আরা চৌধুরী বলেন মডেল টেস্টটি খুব প্রয়োজন ছিল। সবকিছু শৃঙ্খলার সাথে হয়েছে। এতে- শিক্ষার্থী, অভিভাবক সবাই সন্তুষ্ট।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এ কে এম ফজলুল হক বলেন, প্রধান শিক্ষকদের মাসিক সমন্বয় সভায় ১৫ অক্টোবর বৃত্তি পরীক্ষার্থীদের জন্য মডেল টেস্ট নেয়ার সিদ্ধান্ত হয়। ফাইনালের আদলে পরীক্ষা নিতে গিয়ে ৯টি কেন্দ্রের ব্যয় মেটানো এবং পরীক্ষার সাথে জড়িত আনুষঙ্গিক অন্যান্য খরচ হিসেব করে ফি নির্ধারণ করা হয়েছে। স্বতঃস্ফুর্তভাবে পরীক্ষার্থীরা অংশগ্রহন করে, এক্ষেত্রে অভিভাবকদের সহযোগিতাও অনেক ভালো ছিল বলে জানান এই শিক্ষা কর্মকর্তা।
মিরসরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সোমাইয়া আক্তার বলেন, বৃত্তি পরীক্ষা সম্পর্কে আমি অবগত আছি। এবিষয়ে আমি শিক্ষা কর্মকর্তার সাথে কথা বলেছি। শিক্ষকদের সমন্বয় মিটিংয়ের রেজ্যুলেশন আছে- সেই সিদ্ধান্ত মোতাবেক পরীক্ষা নেয়া হয়েছে।