ঢাকা
খ্রিস্টাব্দ

ভারতে নিটের প্রশ্নফাঁসকে ঘিরে আন্দোলন

অনশন প্রত্যাহার ও আরএসএসের পাল্টা মাঠে নামা: কোণঠাসা ককরোচ পার্টি, নিয়ন্ত্রণ নিল সরকার

দৈনিক লাল সবুজ বাংলাদেশ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক প্রতিবেদক | দৈনিক লাল সবুজ বাংলাদেশ
ঢাকা
শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬, ২.৩৮ অপরাহ্ন

আপডেট : শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬, ২.৩৮ অপরাহ্ন


নিউজটি দেখেছেনঃ 3904 জন

  • নিউজটি দেখেছেনঃ 3904 জন
অনশন প্রত্যাহার ও আরএসএসের পাল্টা মাঠে নামা: কোণঠাসা ককরোচ পার্টি, নিয়ন্ত্রণ নিল সরকার
গ্রাফিকঃ দৈনিক লাল সবুজ বাংলাদেশ।


ভারতে নিটের প্রশ্নফাঁসকে ঘিরে তৈরি হওয়া পরিস্থিতির মোকাবিলায় গোটা দেশেই এ বার সরাসরি মাঠে নামছে ‘সঙ্ঘ পরিবার’ ভারতের রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ (RSS)। শিক্ষা ক্ষেত্রে সক্রিয় আরএসএস-এর সহযোগী সংগঠনগুলি বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। এ রাজ্যে যা শুরু হচ্ছে শুক্রবার দুপুর থেকেই। ছাত্র সংগঠন এবিভিপি, শিক্ষক-অধ্যাপকদের সংগঠন এবিআরএসএম, বিএসএম, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পরিচালক সংগঠন বিদ‍্যা ভারতী-সহ অন্তত আধ ডজন সংগঠন একযোগে মিছিল ও পথসভার ডাক দিয়েছে জেলায় জেলায়। কয়েক দিনের মধ্যেই কলকাতাতেও কেন্দ্রীয় মিছিল হবে। 

কেন্দ্রীয় সরকারের আশ্বাসে সাড়া দিয়ে বৃহস্পতিবার রাতে সোনম ওয়াংচুক অনশন প্রত্যাহার করে নিলেও ককরোচ জনতা পার্টি এখনও কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফার দাবিতে অনড়। শুক্রবার কলকাতায় মিছিলের ডাক দিয়েছে তারা। এ দিনই কলকাতা-সহ গোটা রাজ্যে পথে নামছে সিপিএমের ছাত্র সংগঠন এসএফআই। একাধিক বামপন্থী ছাত্র সংগঠনও তাদের সঙ্গী। মিছিল, ধর্মঘট, ক্লাস বয়কট-সহ বিবিধ কর্মসূচি নিয়েছে তারা।



সঙ্ঘ পরিবারের অভিযোগ, নিট-আন্দোলনকে কাজে লাগিয়ে গোটা দেশেই বিভ্রান্তি ছড়াতে চাইছেন বামপন্থীরা। ইতিমধ্যেই বিভিন্ন রাজ্যে ওই আন্দোলনের রেশ ছড়িয়েছে। সেই কারণেই পাল্টা প্রতিরোধ গড়তে পথে নামার সিদ্ধান্ত। যেহেতু শিক্ষাক্ষেত্রের একাধিক সংগঠন একসঙ্গে পথে নামবে বলে স্থির হয়েছে, তাই একটি অভিন্ন ব‍্যানারের অধীনে এই কর্মসূচিগুলির আয়োজন করা হবে। সেটির নাম ‘শিক্ষা সংস্কৃতি সুরক্ষা মঞ্চ’। এই ব‍্যানার সামনে রেখে যে সংগঠনগুলি পথে নামছে, সেগুলির রাজ‍্য নেতৃত্ব নিজেদের মধ্যে বৈঠকও সেরে নিয়েছেন।

উত্তরবঙ্গে রায়গ়ঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে শুক্রবার বেলা ১২টায় প্রতিবাদ সমাবেশের ডাক দেওয়া হয়েছে। জাতীয়তাবাদী ছাত্র, শিক্ষক, অধ্যাপক, শিক্ষাকর্মীদের সে সমাবেশে যোগদানের আহ্বান জানানো হয়েছে। দক্ষিণবঙ্গে শুক্রবার সঙ্ঘ পরিবার পথে নামছে ঝাড়গ্রামে। বিকেল সাড়ে চারটেয় ঝাড়গ্রাম পাঁচমাথার মোড়ে জমায়েতের ডাক। সেখান থেকে শুরু হবে মিছিল। শেষে পথসভা। বাঁকুড়া, উত্তর ২৪ পরগনা, জলপাইগুড়ি, পশ্চিম বর্ধমানেও মিছিল, পথসভা ইত্যাদির ডাক দেওয়া হয়েছে। কয়েক দিনের মধ্যে কলকাতায় কেন্দ্রীয় মিছিল আয়োজন করা নিয়েও কথা শুরু হয়েছে বলে সঙ্ঘ সূত্রের খবর।

এবিআরএসএম রাজ‍্য নেতা বাপি প্রামাণিক বলেন, ‘‘প্রশ্ন ফাঁস হওয়া অবশ‍্যই উদ্বেগজনক ঘটনা এবং সেটা প্রধানমন্ত্রী নিজেই বলছেন। কিন্তু নিট-এর ক্ষেত্রে প্রশ্ন ফাঁসের পরেও কোনও ছাত্রের বছর নষ্ট হতে না-দিয়ে কেন্দ্রীয় সরকার দ্রুত পুনঃপরীক্ষা করিয়েছে এবং সুষ্ঠু ভাবে তার ফল প্রকাশও করিয়ে দিয়েছে। তার পরেও এই রকম হিংসাত্মক আন্দোলন অনর্থক। সেই বার্তা নিয়েই আমরা পথে নামছি।’’ বিএসএম-এর প্রান্ত টোলি সদস্য অরিন্দম ভট্টাচার্যের কথায়, ‘‘নিট-কাণ্ড বা প্রশ্ন ফাঁস রোখার দাবি এখন মুখোশ মাত্র। এই আন্দোলন ছাত্রেরা শুরু করেছিলেন। কিন্তু তাতে দেশবিরোধী শক্তি ঢুকে পড়েছে। তারাই পুরো আন্দোলনের দখল নেওয়ার চেষ্টা করছে। আমরা এই ষড়যন্ত্র সফল হতে দেব না।’’

......৫ বছর জেল, কোটি টাকার জরিমানা! মোদির আশ্বাসের পরই প্রশ্নফাঁসে কড়া আইনের পথে কেন্দ্র?



বৃহস্পতিবার রাতে এক্স হ্যান্ডলে একটি ভিডিও বার্তা প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সাফ জানিয়ে দেন, তরুণদের ভবিষ্যৎ নিয়ে ছিনিমিনি খেললে রেহাই মিলবে না। প্রধানমন্ত্রী আশ্বাস দিয়েছিলেন। সেই মতোই এবার প্রশ্ন ফাঁস নিয়ে কঠোর আইন আনতে চলেছে কেন্দ্র। সূত্রের খবর, প্রশ্ন ফাঁসের জেরে ন্যূনতম তিন বছরের কারাদণ্ড দেওয়ার প্রস্তাব রাখা হচ্ছে। সেই সঙ্গে অন্তত ১০ লক্ষ টাকার জরিমানাও গুণতে হবে বলে শোনা যাচ্ছে। শুক্রবারই ক্যাবিনেট বৈঠক রয়েছে। সেখানে আইন সংশোধনের এই নতুন প্রস্তাবগুলি পাশ করানো হতে পারে।

বৃহস্পতিবার রাতে এক্স হ্যান্ডলে একটি ভিডিও বার্তা প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সাফ জানিয়ে দেন, তরুণদের ভবিষ্যৎ নিয়ে ছিনিমিনি খেললে রেহাই মিলবে না। তিনি বলেন, “আমি জানি, প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিষয়টি কোনও সাধারণ বা তুচ্ছ বিষয় নয়। এটি লক্ষ লক্ষ শিক্ষার্থী এবং তাদের অভিভাবকদের জন্য অত্যন্ত উদ্বেগজনক ও কষ্টদায়ক। তাই, প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনার পর গত আড়াই মাসে বেশ কিছু আইনি পদক্ষেপ করা হয়েছে। দোষীদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তারা এখন কারাগারে রয়েছে। শিক্ষার্থীদের শিক্ষাবর্ষ যাতে নষ্ট না হয় সেটা নিশ্চিত করাই আমাদের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।”

প্রধানমন্ত্রীর পূর্ব ঘোষণা মতো প্রশ্ন ফাঁস মামলায় তদন্ত করার জন্য ফাস্ট ট্র্যাক আদালত তৈরি হয়ে গিয়েছে ইতিমধ্যেই। সূত্রের খবর, এবার পাবলিক এক্সামিনেশন (প্রিভেনশন অফ আনফেয়ার মিনস) অ্যাক্ট, ২০২৪-এ সংশোধনের কথা ভাবছে মোদি সরকার। দোষীদের তিন থেকে পাঁচ বছরের জেল, সর্বোচ্চ ১০ লক্ষ টাকা জরিমানা-এসব শাস্তির ব্যবস্থা থাকবে সংশোধিত আইনে। যেসমস্ত সংস্থা পরীক্ষা পরিচালনার দায়িত্বে থাকবে, তারা দোষী সাব্যস্ত হলে পাঁচ থেকে ১০ বছরের জেল এবং ১ কোটি টাকার জরিমানা হতে পারে। মন্ত্রিসভার বৈঠকে পাশ হলেই এই সংশোধনী পেশ হবে সংসদে।

অন্যদিকে, শুক্রবার দুপুর ১২টার পর কেন্দ্রীয় মন্ত্রীদের সঙ্গে ককরোচ জনতা পার্টির প্রতিনিধি দলের এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে চলেছে। এই আলোচনায় সরকারের প্রতিনিধিত্ব করবেন কেন্দ্রের শীর্ষস্থানীয় নেতারা। আন্দোলনকারীদের দাবি ছিল, জেপি নাড্ডার বাড়ি বা দপ্তর নয়, আলোচনা হোক নিরপেক্ষ স্থানে। সেই দাবি মেনে কনস্টিটিউশন ক্লাবে বৈঠক হবে। সেখান থাকতে পারেন নাড্ডা স্বয়ং। মন্ত্রী জিতেন্দ্র সিংও থাকতে পারেন এই আলোচনায়। তবে এই নিয়ে সংসদে কবে আলোচনা হবে, তা এখনও স্থির হয়নি।

....ভারতের রাজনৈতিক আন্দোলন ও সোনম ওয়াংচুকের অনশন প্রত্যাহার: আঞ্চলিক প্রভাব ও বর্তমান পরিস্থিতি

ভারতের কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবি এবং শিক্ষা ও পরিবেশ সংক্রান্ত আন্দোলনকে কেন্দ্র করে চলমান উত্তাল পরিস্থিতি নতুন মোড় নিয়েছে। দীর্ঘ টানাপোড়েন ও অনশনের পর ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আশ্বাসের প্রেক্ষিতে বিশিষ্ট পরিবেশকর্মী ও আন্দোলনকারী সোনম ওয়াংচুক তাঁর অনশন প্রত্যাহার করে নিয়েছেন।

সোনম ওয়াংচুকের অনশন ভঙ্গ ও আন্দোলনের গতিপ্রকৃতিঃ
বৃহস্পতিবার রাতে কেন্দ্রীয় সরকার ও প্রধানমন্ত্রীর তরফ থেকে ইতিবাচক আলোচনার আশ্বাস পাওয়ার পর সোনম ওয়াংচুক অনশন শেষ করার সিদ্ধান্ত নেন। তবে তিনি অনশন প্রত্যাহার করলেও আন্দোলন পুরোপুরি স্তিমিত হয়নি। ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ নামক আন্দোলনকারী সংগঠনটি এখনও কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের তাৎক্ষণিক পদত্যাগের দাবিতে অটল রয়েছে। যদিও সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, শিক্ষামন্ত্রী পদত্যাগ করছেন না এবং সে ধরনের কোনো পদক্ষেপও বর্তমানে বিবেচনা করা হচ্ছে না।

পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি ও সামাজিক অস্থিরতাঃ
শুক্রবার এই আন্দোলনের জবাবে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ (আরএসএস) এবং ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র অনুসারীদের পাল্টাপাল্টি রাজনৈতিক কর্মসূচি দেখা গেছে, যা রাজপথের উত্তাপ বাড়িয়ে তোলে। তবে প্রধান নেতৃত্ব অনশন থেকে সরে দাঁড়ানোয় রাজপথের সামগ্রিক আন্দোলনের ধার কিছুটা শিথিল ও দুর্বল হয়ে পড়েছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

বাংলাদেশে প্রতিক্রিয়া ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমঃ
সীমান্ত পেরিয়ে এই আন্দোলনের রেশ ও রাজনৈতিক চাঞ্চল্যের প্রভাব দেখা গেছে প্রতিবেশী বাংলাদেশেও। বিশেষ করে বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একশ্রেণীর ব্যবহারকারীকে এটি নিয়ে বেশ উচ্ছ্বসিত হতে দেখা গেছে। নেটিজেনদের একটি অংশ সামাজিক মাধ্যমে জল্পনা-কল্পনা ছড়াতে থাকে যে, এই আন্দোলনের জেরে হয়তো ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের পতন ঘটতে যাচ্ছে।

বর্তমান পরিস্থিতিঃ
সর্বশেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত, কেন্দ্রীয় সরকারের আশ্বাস এবং প্রধান নেতৃবৃন্দের অনশন ভঙ্গের ফলে বড় ধরনের রাজনৈতিক সংকটের আশঙ্কা আপাতত কেটে গেছে। আন্দোলনকারীদের একটি অংশ রাজপথে শক্ত অবস্থানে থাকার চেষ্টা করলেও শীর্ষ নেতৃত্বের সমর্থনে গতি কমার কারণে পরিস্থিতি ধীরে ধীরে সরকারের নিয়ন্ত্রণে আসছে।


নিউজটি পোস্ট করেছেনঃ এলএসবিডি/এনকেডি

কমেন্ট বক্স
বাংলাদেশ | সারা বিশ্ব
দৈনিক লাল সবুজ বাংলাদেশ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক প্রতিবেদক | দৈনিক লাল সবুজ বাংলাদেশ
ঢাকা
শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬, ২.৩৮ অপরাহ্ন
আপডেট : শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬, ২.৩৮ অপরাহ্ন
সর্বশেষ সংবাদ