ঢাকা
খ্রিস্টাব্দ

ছেলের হাতে বাবা খুন, হত্যাকারীর আদালতে লোমহর্ষক বর্ণনা

দৈনিক লাল সবুজ বাংলাদেশ

শাখাওয়াত হোসেন মোল্লা | সংবাদদাতা
শিবচর (মাদারীপুর) উপজেলা
বুধবার, ১২ নভেম্বর ২০২৫, ২.১০ পূর্বাহ্ন

আপডেট : বুধবার, ১২ নভেম্বর ২০২৫, ২.১০ পূর্বাহ্ন


নিউজটি দেখেছেনঃ 868089 জন

  • নিউজটি দেখেছেনঃ 868089 জন
ছেলের হাতে বাবা খুন, হত্যাকারীর আদালতে লোমহর্ষক বর্ণনা


মাদারীপুরের শিবচর উপজেলার বাঁশকান্দি ইউনিয়নের পঞ্চগ্রামে লোমহর্ষক ঘটনা ঘটে। সোমবার বিকেলে মাদারীপুর বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট হুমায়ূন কবিরের আদালতে হাজির করা হলে দোষ স্বীকার করে জবানবন্দিতে এমন লোমহর্ষক বর্ণনা করেন। বাবাকে হত্যাকারী ছেলে মোঃ ফারুক (২৭)।


হত্যাকারী ফারুক বলেন, পছন্দের মেয়ের সাথে বিয়ে না দেওয়ায় এবং যার সাথে বিয়ে হয়েছিল সেই স্ত্রীর সাথে ও বাবা ও ভাইয়ের অবৈধ সম্পর্ক থাকার ঘটনা মেনে নিতে পারেনি ছেলে।


একপর্যায়ে স্ত্রীর সাথে তার ছাড়াছাড়ি হয়ে যায়।যার পেছনে বাবার হাত ছিল বলে সে মনে করে। বাবার সাথে স্ত্রীর এই পরকীয়ার সম্পর্ক মেনে নিতে না পেরে বাবাকে হত্যার পরিকল্পনা করে ফারুক। সেই পরিকল্পনার সফল বাস্তবায়ন করতেই বাবাকে নিয়ে কাজের সন্ধানে দুরবতী এলাকায় আসে সে।


সুত্রে জানা যায়, রবিবার রাতের বেলা ফারুকের স্ত্রীর সাথে তার বাবা মোবাইলে কথা বলা শেষে ঘুমিয়ে পড়লে কোদাল দিয়ে এলোপাতাড়ি কূপিয়ে তাকে হত্যা করা হয়।


সোমবার রাত ১০ টার দিকে প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানান মাদারীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জাহাঙ্গীর আলম। নিহত মতিউর ইসলাম চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার ভোলাহাট থানার হারিয়াবাড়ি গ্রামের বাসিন্দা। তিনি দিনমজুরের কাজ করতেন।


মাদারীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অবস) জাহাঙ্গীর আলম জানান, মতিউর ও তার ছেলে ফারুক কাজের সন্ধানে মাদারীপুর জেলার শিবচর উপজেলার বাঁশকান্দি ইউনিয়নের পঞ্চগ্রামে এসে রসুন বপনের কাজ নেয়। বাবা ছেলে রাতের খাবার শেষে একসাথেই একই বিছানায় ঘুমাতে যায়। 


রাত ১০ টার পর বিছানায় শুয়ে ছেলে ফারুকের স্ত্রীর সাথে মোবাইলে কথা বলেন বাবা মতিউর। এসময় পাশের ঘরে বসে বিড়ি খাচ্ছিল ফারুক।


পরে রাত ১২ টার সময় ঘুমিয়ে পড়লে ঘরে ঢুকে ঘুমন্ত অবস্থায় কোদাল দিয়ে এলোপাতাড়ি কূপিয়ে হত্যা করে। যন্ত্রনায় ছটফট করতে থাকলে মৃত্যু নিশ্চিত করতে মুখ, মাথা আর বুকসহ এলোপাতারি কোপাতে থাকে। মাত্র আড়াই মিনিটে ১৭ টি কোপ দেয়।


তিনি আরো জানান, শব্দ পেয়ে পাশের ঘর থেকে বাড়ির মালিকের ছেলে ও আশপাশের লোকজন ঘটনাস্থলে ছুটে আসে এবং মতিউরকে রক্তাক্ত অবস্থায় দেখতে পায়।


এসময় বাড়ির মালিক শিবচর জানায় ফোন দেয়। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ঘাতক ফারুককে আটক করে। একই সাথে হত্যাকান্ডে ব্যবহৃত কোদাল, রক্ত মাখা জামাকাপড় জব্দ করে পুলিশ। মৃতদেহটি সুরতলার করে ময়নাতদন্তের জন্য মাদারীপুর সদর হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়।


এঘটনায় মতিউরের স্ত্রী কোহিনুর বেগম বাদী হয়ে তার ছেলেকে আসামি করে শিবচর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। নিজের দোষ স্বীকার করে বিঞ্জ বিচারকের নিকট ফৌজদারী কার্যবিধি ১৬৪ ধারা মোতাবেক স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেওয়া শেষে ফারুককে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়।


নিউজটি পোস্ট করেছেনঃ এলএসবিডি/এনকেডি

কমেন্ট বক্স
বাংলাদেশ | জাতীয়
দৈনিক লাল সবুজ বাংলাদেশ

শাখাওয়াত হোসেন মোল্লা | সংবাদদাতা
শিবচর (মাদারীপুর) উপজেলা
বুধবার, ১২ নভেম্বর ২০২৫, ২.১০ পূর্বাহ্ন
আপডেট : বুধবার, ১২ নভেম্বর ২০২৫, ২.১০ পূর্বাহ্ন