ঢাকা
খ্রিস্টাব্দ

প্লাস্টিক বর্জ্যে খালের ক্ষতি ও সুন্দরবনে প্রভাব

দৈনিক লাল সবুজ বাংলাদেশ

স্টাফ রিপোর্টার | দৈনিক লাল সবুজ বাংলাদেশ
ঢাকা
বৃহস্পতিবার, ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, ২.০৫ পূর্বাহ্ন

আপডেট : বৃহস্পতিবার, ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, ২.২২ পূর্বাহ্ন


নিউজটি দেখেছেনঃ 2352802 জন

  • নিউজটি দেখেছেনঃ 2352802 জন
প্লাস্টিক বর্জ্যে খালের ক্ষতি ও সুন্দরবনে প্রভাব

বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলার ঐতিহ্যবাহী রায়েন্দা খালটিকে নীরবে হত্যা করা হচ্ছে। খালের দক্ষিণ পাড় যেন প্লাস্টিক, পলিথিন এবং বর্জ্যের পাহাড়। পুরো একটি বাজারের প্রতিদিনের জমা প্লাস্টিক, পলিথিনসহ আবর্জনা এবং হোটেল-রেস্তোরাঁ ও বাসাবাড়ির ময়লা সবই খালের পাড়ে ঢালা হচ্ছে। বর্জ্য ফেলার নির্দিষ্ট জায়গা না থাকা এবং প্রশাসনিক উদ্যোগের অভাবে একসময়ের খরস্রোতা খালটি এখন মৃত খালে পরিণত হয়েছে। খালের পাড় এবং জনবহুল এলাকায় ময়লা ফেলায় দূষিত হচ্ছে পানি ও পরিবেশ। এসব প্লাস্টিক ও পলিথিন জোয়ার-ভাটায় পানিতে ভেসে ভেসে চলে যাচ্ছে সবখানে। ভাটির টানে নেমে অপচনশীল এসব অপদ্রব্য বলেশ্বর নদ হয়ে চলে যাচ্ছে নিকটবর্তী সুন্দরবনে। বলেশ্বর নদে জেলেদের জালে আটকা পড়ছে প্লাস্টিকের বোতল ও পলিথিন।


সুন্দরবনের বিভিন্ন নদ-নদী ও খালের চরে গাছের শ্বাসমূলেও আটকে থাকতে দেখা যায় এসব প্লাস্টিক বর্জ্য। এসব তথ্য জানান জেলে ও পর্যটন ব্যবসায়ীরা। বঙ্গোপসাগরের নানা প্রজাতির সামুদ্রিক মাছ এবং সুন্দরবনের মধু ও মাছের জন্য প্রসিদ্ধ দক্ষিণাঞ্চলের অন্যতম বাণিজ্যিক বন্দর রায়েন্দা বাজার। এই বাজারের বুক চিরে বয়ে গেছে বলেশ্বর নদের শাখা উপজেলার প্রধানতম এই খালটি। আর এই খালের ওপর নির্ভরশীল এ অঞ্চলের ব্যবসা-বাণিজ্য, কৃষি ও চাষাবাদ। বলতে গেলে উপজেলার উন্নয়ন, উৎপাদন ও মানুষের জীবন-জীবিকার সিংহভাগই গড়ে উঠেছে এই খালকে কেন্দ্র করে। অথচ সেই মানুষের অবহেলাতেই এখন মরার পথে খালটি। রায়েন্দা খালে একসময় দুই তলা লঞ্চ ভিড়ত। সেসব লঞ্চে ঢাকা, খুলনা থেকে ব্যাবসায়িক পণ্য আনতেন এ অঞ্চলের ব্যবসায়ীরা। এখন তাদের কাছে এ সবই রূপ কথার গল্প। খালটির উত্তর পারে সামুদ্রিক মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র। সাগর থেকে মাছ ধরে শত শত ট্রলার বোঝাই করে ঘাটে আসেন জেলেরা। এ ছাড়া বলেশ্বর নদের মিঠা পানি জোয়ারের টানে এই খালের মাধ্যমে উপজেলার অভ্যন্তরে প্রবাহিত শাখা খালগুলোতে চলে যায়। এই পানি থেকেই কৃষকরা আমন, বোরোসহ সব ধরনের ফসল উৎপাদন করে থাকেন।


কিন্তু মানবসৃষ্ট বর্জ্য দুর্যোগে খালটি নাব্যতা হারিয়ে পানি প্রবাহ কমে যাওয়ায় শাখা খালগুলোতে পানি পৌঁছতে পারছে না। ফলে মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে চাষাবাদ। অন্যদিকে নাব্য সংকটে ভাটির সময় দুর্ভোগে পড়ে ফিশিং ট্রলার, পণ্য ও যাত্রীবাহী জলযান। এসব জলযান চরে আটকে জোয়ারের অপেক্ষায় থাকতে হয়। এতে সামগ্রিকভাবেই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এলাকার বাণিজ্য ও উৎপাদন। বর্জ্য অপসারণ করে খনন করা হলে আবার প্রাণ ফিরে পাবে খালটি এমনটাই দাবি সংশ্লিষ্ট সবার। শরণখোলা মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রের আড়তদার মো. কবির হাওলাদার, মজিবর তালুকদার ও দেলোয়ার ফরাজি জানান, খালটি তাদের একমাত্র ভরসা। খালটি ভরাট হওয়ায় ভাটির সময় ট্রলার চরে আটকে থাকে। তখন চরম দুর্ভোগে পড়তে হয় তাদের।


রায়েন্দা বাজারের ব্যবসায়ী শহিদুল ইসলাম ও ছরোয়ার হোসেন জানান, রায়েন্দা বাজারে ছোটবড় দুই সহস্রাধিক দোকানপাট হোটেল-রেস্তোরাঁ ও সহস্রাধিক বাসাবাড়ি রয়েছে। বাজারের সমস্ত বর্জ্য ফেলা হচ্ছে খালের পারে। এতে একদিকে সংকুচিত হচ্ছে খাল, অন্যদিকে দূষণের শিকার হচ্ছে পানি। ব্যবসায়ীরা জানান, সড়ক পথে মাল আনা হলেও এখনো নৌপথ তাদের ব্যবসার প্রধান মাধ্যম। নৌযানে করে ঢাকা, খুলনা থেকে তাদের বেশিরভাগ ব্যাবসায়িক পণ্য আনা-নেওয়া করা হয়। ময়লা, আবর্জনায় খালটি ভরাট হওয়ায় ক্ষতির মুখে পড়ছেন তারা। খালে ময়লা না ফেলা এবং খালটি খনন করে নাব্যতা ফিরিয়ে আনার দাবি জানান তারা।


সুন্দরবনের পর্যটন ব্যবসায়ী ও সাম্পান ট্যুরিস্ট লঞ্চের পরিচালক মো. রাসেল আহমেদ বলেন, সুন্দরবনের বিভিন্ন নদী, খালে অসংখ্য প্লাস্টিক বর্জ্য ভাসতে দেখি। যা বিভিন্ন এলাকা থেকে ভেসে বনে যায়। আগে থেকেই বনে ও নদীতে কোনো ধরনের বর্জ্য না ফেলার নির্দেশনা দেওয়া হয় ট্যুরিস্টদের। বনে যে পরিমাণ প্লাস্টিক-পলিথিন দূষণ দেখা যায় তা ট্যুরিস্টদের মাধ্যমে হওয়ার সুযোগ খুবই কম। সুন্দরবনের কাছাকাছি এলাকার নদী-খালে এসব অপচনশীল বর্জ্য ফেলা বন্ধ না হলে বনের জীববৈচিত্র্যের ওপর মারাত্মক বিরূপ প্রভাব পড়বে।


রায়েন্দা বাজার ব্যবস্থাপনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক মো. মনিরুজ্জামান বাবুল তালুকদার বলেন, একসময় বাজারের আশেপাশে অসংখ্য পরিত্যক্ত ডোবানা ছিল। সেখানে ফেলা হতো ময়লা। কিন্তু সময়ের পরিক্রমায় সেসব ডোবা-নালা ভরাট করে বাড়িঘর তৈরি করায় এখন আর ময়লা ফেলার জায়গা নেই। যে কারণে বিচ্ছিন্নভাবে ময়লা ফেলা হচ্ছে। এসব ময়লা পুড়িয়ে ধ্বংস করা হবে। এ ছাড়া শিগগিরই পরিকল্পিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনার স্থান নির্ধারণেরও চেষ্টা চলছে।উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা দেবব্রত সরকার বলেন, রায়েন্দা খালটি কৃষকের প্রাণ। নানা কারণে খালটি ভরাট হওয়ায় নাব্য সংকট দেখা দিয়েছে।  ময়লা, আবর্জনার পাশাপাশি পলি জমে পানি প্রবাহ কমে গেছে। এতে কৃষকরা সঠিক সময় চাষাবাদের পানি পাচ্ছে না। খালটি রক্ষা না করলে কৃষিতে বিপর্যয় দেখা দেবে।শরণখোলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুদীপ্ত কুমার সিংহ বলেন, খালটি যে কোনো উপায়ে রক্ষা করতে হবে। বর্জ্য ফেলার জায়গা খোঁজা হচ্ছে। দ্রুত এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


নিউজটি পোস্ট করেছেনঃ এলএসবিডি/হেনা

কমেন্ট বক্স
বাংলাদেশ | জাতীয়
দৈনিক লাল সবুজ বাংলাদেশ

স্টাফ রিপোর্টার | দৈনিক লাল সবুজ বাংলাদেশ
ঢাকা
বৃহস্পতিবার, ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, ২.০৫ পূর্বাহ্ন
আপডেট : বৃহস্পতিবার, ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, ২.২২ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ সংবাদ