ঢাকা
খ্রিস্টাব্দ

ডিসেম্বরে জাতীয় নির্বাচনের তফসিল: ঘোষণা আসতে পারে ৪ বা ৭ ডিসেম্বর

দৈনিক লাল সবুজ বাংলাদেশ

অনলাইন ডেস্ক প্রতিবেদক | দৈনিক লাল সবুজ বাংলাদেশ
ঢাকা
রবিবার, ১৬ নভেম্বর ২০২৫, ২.১৯ পূর্বাহ্ন

আপডেট : রবিবার, ১৬ নভেম্বর ২০২৫, ২.১৯ পূর্বাহ্ন


নিউজটি দেখেছেনঃ 816950 জন

  • নিউজটি দেখেছেনঃ 816950 জন
ডিসেম্বরে জাতীয় নির্বাচনের তফসিল: ঘোষণা আসতে পারে ৪ বা ৭ ডিসেম্বর

আগামী ডিসেম্বরের ৪ বা ৭ তারিখে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার জোর প্রস্তুতি চলছে নির্বাচন কমিশনে। এ জন্য ইসি ১৮ নভেম্বর চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করতে যাচ্ছে। আগামী বছরের ৫ বা ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে প্রস্তুতি নেওয়া হলেও সংসদ ও গণভোট একই দিনে করার সরকারি সিদ্ধান্ত, বাগেরহাট আসন পুনর্বহাল–সংক্রান্ত রায় এবং সীমানা পুনর্নির্ধারণ নিয়ে আদালতে থাকা বহু আবেদনের কারণে অতিরিক্ত জটিলতা তৈরি হয়েছে। এসব বিষয়ে চূড়ান্ত নির্দেশনা পেতে বিলম্ব হলে তফসিল ঘোষণাও প্রভাবিত হতে পারে বলে জানিয়েছেন ইসি সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ।

ইসি সূত্র জানিয়েছে, রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন প্রক্রিয়া প্রায় শেষের পথে। ভোটার তালিকা চূড়ান্ত হবে ১৮ নভেম্বর। রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে এখন শেষ ধাপের সংলাপ চলছে। এ ছাড়া ১৮ নভেম্বর পোস্টাল ব্যালটে ভোট দেওয়ার জন্য ‘পোস্টাল ভোট বিডি’ নামে অ্যাপ উদ্বোধন করা হবে। এরপর প্রবাসী, ভোটের দায়িত্বে সরকারি চাকরিজীবী ও কয়েদিরা নিবন্ধন করতে পারবেন। এজন্য ১০ লাখ দেশের অভ্যন্তরে এবং ১০ লাখ প্রবাসী নিবন্ধন করতে পারেন- এমনটি ধরে নিয়েই ব্যালট পেপার ছাপানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। প্রয়োজনে আরও ছাপানোর জন্য থাকছে প্রস্তুতিও। এদিকে চলছে নির্বাচনি প্রশিক্ষণও।

ইসি সচিব আখতার আহমেদ জানান, নতুনদের নিয়ে এখন দেশের ভোটার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১২ কোটি ৭৬ লাখ ১২ হাজার ৩৮৪ জন। তিনি বলেন, আমরা চূড়ান্তভাবে ভোট কেন্দ্রের তালিকা প্রস্তুত করেছি। মোট ৬৪টি জেলার ৩০০টি সংসদীয় আসনে কেন্দ্রের সংখ্যা ৪২,৭৬১। কক্ষের হিসাবে পুরুষদের জন্য ১ লাখ ১৫ হাজার ১৩৭ এবং মহিলাদের জন্য ১ লাখ ২৯ হাজার ৬০২ কক্ষ নির্ধারণ করা হয়েছে। অর্থাৎ মোট        কক্ষের সংখ্যা দাঁড়াচ্ছে ২ লাখ ৪৪ হাজার ৬৪৯। এদিকে নির্বাচন কমিশন জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), বাংলাদেশ আমজনগণ পার্টি ও বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলকে (মার্কসবাদী) নিবন্ধন দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। চলতি সপ্তাহেই নিবন্ধনের চূড়ান্ত সনদ দেবে ইসি। 

সূত্র জানায়, আরপিও সংশোধন অধ্যাদেশ জারির মধ্যে নির্বাচনি আইনের সব ধরনের সংস্কার কাজ শেষ হয়েছে। এরই মধ্যে ভোটার তালিকা আইন সংশোধন, নির্বাচন কর্মকর্তা বিশেষ বিধান আইন সংশোধন, নির্বাচন কমিশন সচিবালয় আইন সংশোধন, ভোট কেন্দ্র নীতিমালা, দেশি-বিদেশি পর্যবেক্ষণ নীতিমালা, সাংবাদিক নীতিমালাসহ সব ধরনের আইন-বিধি সংস্কার করেছে ইসি। আরপিও সংশোধন হওয়ার পর সেই আলোকে দল ও প্রার্থীর আচরণ বিধিমালা জারি করেছে ইসি।

একসঙ্গে দুই ভোটে বাড়বে কর্মযজ্ঞ : প্রথমবারের মতো জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট একসঙ্গে করতে হচ্ছে নির্বাচন কমিশনকে। দেশে ১৯৭৭, ১৯৮৫ ও ১৯৯১ সালে তিনটি গণভোট হয়েছে। তবে কখনো জাতীয় নির্বাচনের দিনে গণভোট হয়নি। গত দুটি গণভোটে সম্পৃক্ত ছিলেন নির্বাচন কমিশনের এমন দুজন কর্মকর্তা বলেন, সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতির সঙ্গে ভোটকক্ষ বাড়ানো, ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা বাড়ানো, প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ আর ভোটার সংখ্যা অনুপাতে ব্যালট পেপার, ব্যালট বাক্সসহ সরঞ্জামাদি বাড়াতে হবে গণভোটে। প্রবাসী বাংলাদেশি ভোটারদের বিষয়টিও রয়েছে। সংসদ নির্বাচনে প্রতীক নিয়ে ব্যাপক প্রচারণা থাকবে প্রার্থীদের, আর গণভোট নিয়ে গ্রামে-গঞ্জে সচেতনতামূলক প্রচারণা চালানোর বিষয় রয়েছে। ব্যয় ২০% এর বেশি বাড়বে। গণভোট সংক্রান্ত অধ্যাদেশ জারি ও বিধি প্রণয়নের পরই সার্বিক বিষয়ে প্রকৃত ধারণা পাওয়া যাবে। একই দিনে ভোটের সময় সংসদ ও গণভোটের যেমন ব্যবস্থপনার বিষয় রয়েছে, তেমনি গণনার ক্ষেত্রে কোনটি আগে, কীভাবে করবে তা নির্ধারণের বিষয় রয়েছে। আর গণভোটের ফলাফল গণনার সময়ও লাগবে বেশি।

বৃহস্পতিবার জাতির উদ্দেশে ভাষণে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, আমরা সকল বিষয় বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নিয়েছি যে, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিনই গণভোটের আয়োজন করা হবে। অর্থাৎ জাতীয় নির্বাচনের মতো গণভোটও ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে একই দিনে অনুষ্ঠিত হবে। একই দিনে দুই ভোট করার পক্ষে যুক্তি দিয়ে তিনি বলেন, তাতে নির্বাচন আরও উৎসবমুখর ও সাশ্রয়ী হবে। গণভোট অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে উপযুক্ত সময়ে প্রয়োজনীয় আইন প্রণয়ন করা হবে।

প্রধান উপদেষ্টা জাতির উদ্দেশে ভাষণে এমন ঘোষণার পর বিকালে রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সংলাপে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিন বলেন, আনুষ্ঠানিকভাবে জেনে কমিশন বৈঠকে আলোচনা করে এ নিয়ে মতামত দেবেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সংসদ নির্বাচনের জন্য পৌনে ১৩ কোটি ভোটার ও প্রায় ১০ লাখ প্রবাসী বাংলাদেশি ভোটার বিবেচনায় রেখে ব্যালট পেপার মুদ্রণের পরিকল্পনা রয়েছে ইসির। প্রায় ৪৩ হাজার ভোট কেন্দ্রে প্রায় ২ লাখ ৪৫ হাজার ভোটকক্ষ থাকবে। ৯-১০ লাখ ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা আর ৭-৮ লাখ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিয়োজিত থাকবে ভোটে। ইসির নির্দেশনায় রিটার্নিং অফিসারের তত্ত্বাবধানে ৩০০ আসনে সার্বিক নির্বাচন পরিচালনা হয়। এরই মধ্যে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর সঙ্গে আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠক করেছে।


নিউজটি পোস্ট করেছেনঃ এলএসবিডি/এনকেডি

কমেন্ট বক্স
বাংলাদেশ | জাতীয়
দৈনিক লাল সবুজ বাংলাদেশ

অনলাইন ডেস্ক প্রতিবেদক | দৈনিক লাল সবুজ বাংলাদেশ
ঢাকা
রবিবার, ১৬ নভেম্বর ২০২৫, ২.১৯ পূর্বাহ্ন
আপডেট : রবিবার, ১৬ নভেম্বর ২০২৫, ২.১৯ পূর্বাহ্ন