চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) ও পার্শ্ববর্তী এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে চলমান সংঘর্ষ রবিবার (৩১ আগস্ট) আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। দফায় দফায় এই সংঘর্ষে এখন পর্যন্ত অন্তত অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বিকেল ৩টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ে ২ নম্বর গেট বাজারের পূর্ব সীমা থেকে পূর্বদিকে রেলগেট পর্যন্ত রাস্তার উভয় পাশে ১৪৪ ধারা জারি করেন হাটহাজারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মুহাম্মদ আবদুল্লাহ আল মুমিন।
দুপুর ২টার দিকে সংঘর্ষ চলাকালে স্থানীয় কিছু বাসিন্দা রামদা দিয়ে কুপিয়ে দুই শিক্ষার্থীকে ছাদ থেকে নিচে ফেলে দেয়। একই সময়ে আরেকজন শিক্ষার্থীকে ধানক্ষেতে কোপানো হয়েছে। একাধিক ভিডিও ফুটেজে এই হামলার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে, যা ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে। আহতদের মধ্যে একজন হলেন ২০২২-২৩ সেশনের শিক্ষার্থী রাজিউর রহমান রাজু। বাকি দুই শিক্ষার্থীর পরিচয় এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে চবির উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মো. কামাল উদ্দিন বলেন, “আমাদের শিক্ষার্থীদের দফায় দফায় মারধর করে মেরে ফেলছে সন্ত্রাসীরা। আমরা অনবরত রাষ্ট্রের সহায়তা চাইছি, কিন্তু তারা আমাদের কথা কানে তুলছে না। এসব হামলা সাধারণ মানুষের কাজ নয়, উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এসব হামলা চালানো হচ্ছে।”
সংঘর্ষের সূত্রপাত ও বর্তমান পরিস্থিতি: সংঘর্ষের সূত্রপাত হয় গত ৩০ আগস্ট রাত সাড়ে ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ২ নম্বর গেট এলাকায় এক ছাত্রীকে হেনস্তার ঘটনাকে কেন্দ্র করে। এর প্রতিবাদে পরদিন সকাল থেকে শিক্ষার্থীরা আন্দোলন শুরু করেন। বেলা ১২টার দিকে ২ নম্বর গেট এলাকায় ফের সংঘর্ষ শুরু হয়, যাতে উপ-উপাচার্য, প্রক্টরসহ অনেক শিক্ষার্থী আহত হন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তাকর্মীরা ফাঁকা গুলি ছোড়েন। বেলা ৩টা ৪০ মিনিট পর্যন্ত সংঘর্ষ অব্যাহত রয়েছে, তবে এখনো পর্যন্ত সেনাবাহিনী বা পুলিশের কোনো দল ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়নি।
যৌথ বাহিনীর উপস্থিতি: চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) শিক্ষার্থীদের সঙ্গে স্থানীয় বাসিন্দাদের সংঘর্ষের ঘটনায় যৌথ বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। রোববার বিকেল পৌনে ৪টার দিকে ঘটনাস্থলে আসেন পুলিশ, র্যাব ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে কাজ করছে তারা। তবে যৌথ বাহিনী আসতে দেরি হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করে ফারসি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের শিক্ষার্থী মিলন হোসেন সরকার গণমাধ্যমকে বলেন, আজ সকাল থেকেই স্থানীয় বাসিন্দারা আমাদের ওপর হামলা চালান। বাসায় বাসায় আক্রমণ করে। পরে দুপুর ১২টার দিকে স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে সমাঝোতা করতে গেলে প্রক্টর ও উপউপাচার্য প্রশাসন আহত হন। শিক্ষার্থীদের পাশে কোনো আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ছিল না। তারা ৪টার দিকে এসেছে। তারা যদি আরও আগে আসতো, তাহলে অনেক শিক্ষার্থী আহত হতো না। এর দায় সরকারকে নিতে হবে।