নোয়াখালী–৫ (কোম্পানীগঞ্জ–কবিরহাট) আসনে স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী, মানবিক কর্মকাণ্ডের জন্য পরিচিত সাবেক পুলিশ সদস্য শওকত হোসেন নির্বাচনী ব্যয় নির্বাহে সাধারণ মানুষের সহযোগিতা চেয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক আন্তরিক ও খোলামেলা স্ট্যাটাসে তিনি এই আবেদন জানান, যা ইতোমধ্যেই ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
স্ট্যাটাসে শওকত হোসেন লেখেন, “দয়া করে শেয়ার করার অনুরোধ রইলো। আপনারা যারা আমার নির্বাচনী খরচে অংশ নিতে চান, শুধুমাত্র একটি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট এবং একটি বিকাশ নাম্বার দেওয়া হলো। এখানে নির্বাচনী খরচের সম্পূর্ণ আপডেট দেয়া হবে। আপনার সাধ্যমতো সহায়তা পাঠাতে পারেন।” স্ট্যাটাসের শেষে তিনি নিজের পরিচিত নাম ব্যবহার করে লেখেন— মানবিক শওকত।
তার এই আহ্বানকে অনেকেই রাজনীতিতে স্বচ্ছতা ও জনগণের প্রতি আস্থার একটি ব্যতিক্রমী উদাহরণ হিসেবে দেখছেন। বড় দল বা কর্পোরেট পৃষ্ঠপোষকতার পরিবর্তে সাধারণ মানুষের সামান্য সহযোগিতাকেই শক্তি হিসেবে সামনে আনতে চান তিনি।
শওকত হোসেন এক সময় বাংলাদেশ পুলিশের সদস্য ছিলেন। চাকরিরত অবস্থায় চট্টগ্রাম বিভাগীয় পুলিশ হাসপাতালে দীর্ঘদিন কাজ করতে গিয়ে অসহায়, স্বজনহীন ও মানসিক ভারসাম্যহীন রোগীদের পাশে দাঁড়িয়ে মানুষের ভালোবাসা অর্জন করেন। নিজের বেতনের বড় একটি অংশ ব্যয় করেছেন এসব রোগীর চিকিৎসা, খাবার ও দেখভালের পেছনে। এই মানবিক কাজের কারণেই তিনি এলাকায় ‘মানবিক শওকত’ নামে পরিচিত হয়ে ওঠেন। বর্তমানে তিনি পুলিশ বাহিনীতে কর্মরত না থাকলেও তার মানবিক সেবামূলক কাজ অব্যাহত রয়েছে।
নির্বাচনী খরচে সহায়তা চাওয়ার এই পোস্টে সাধারণ মানুষের ইতিবাচক সাড়া চোখে পড়ার মতো। তার ফেসবুক স্ট্যাটাসে মন্তব্য করে এইচ আর রিদয় লিখেছেন, “ইনশাল্লাহ সাধ্য হিসেবে পাশে দাঁড়াবো।” এই মন্তব্যটি অনেকের সমর্থন পেয়েছে এবং শওকত হোসেনের প্রতি মানুষের আস্থার প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে।
স্থানীয় ভোটারদের একটি অংশ মনে করছেন, রাজনীতিতে যেখানে অধিকাংশ প্রার্থী বিপুল অর্থ ব্যয় ও ক্ষমতার হিসাব নিয়ে এগোন, সেখানে শওকত হোসেনের মতো একজন প্রার্থী সাধারণ মানুষের সহানুভূতি ও সহযোগিতার ওপর ভর করে এগোতে চাওয়া একটি ভিন্ন বার্তা দিচ্ছে।
নোয়াখালী–৫ আসনের নির্বাচন যত এগিয়ে আসছে, ততই আলোচনায় আসছেন মানবিক শওকত। এখন দেখার বিষয়, মানুষের ভালোবাসা ও সহায়তার এই প্রবাহ শেষ পর্যন্ত ভোটের বাক্সে কতটা প্রতিফলিত।