ভেনেজ়ুয়েলার রাজধানী কারাকাসে মধ্যরাতে মার্কিন বিশেষ বাহিনী ডেল্টা ফোর্সের অভিযানের দাবি ঘিরে আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়েছে। মার্কিন প্রশাসনের বক্তব্য অনুযায়ী, প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে তাঁর সরকারি বাসভবন মিরাফ্লোরেস প্রাসাদ থেকে সস্ত্রীক আটক করে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। বর্তমানে তিনি নিউ ইয়র্কের একটি ডিটেনশন ক্যাম্পে রয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে। এই ঘটনার জেরে লাতিন আমেরিকা থেকে ইউরোপ পর্যন্ত তীব্র নিন্দা ও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে।
হোয়াইট হাউসের তরফে জানানো হয়েছে, অভিযানের উদ্দেশ্য ছিল মাদক পাচার ও সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে “নির্ণায়ক পদক্ষেপ” নেওয়া। একই সঙ্গে একটি পুরনো ভিডিও প্রকাশ করেছে প্রশাসন, যেখানে মাদুরোকে বলতে শোনা যায়, “আমায় ধরতে এসো।” ভিডিওটি ছয় মাস আগের বলে দাবি করা হলেও, গ্রেফতারির পর সেটি প্রকাশ করাকে ব্যঙ্গাত্মক ও উসকানিমূলক বলে আখ্যা দিয়েছেন সমালোচকেরা। ভিডিওতে মার্কিন প্রতিরক্ষাসচিব পিট হেগসেথের বক্তব্যও যুক্ত করা হয়েছে—তিনি বলেন, মাদুরোর “সুযোগ ছিল, কিন্তু তিনি তা নেননি।”
ঘটনার পর থেকেই ওয়াশিংটনে রাজনৈতিক বিতর্ক চরমে। কংগ্রেসের ডেমোক্র্যাট সদস্যরা প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এই পদক্ষেপকে “অসাংবিধানিক” ও “একনায়কতান্ত্রিক” বলে আক্রমণ করেছেন। কংগ্রেস সদস্য রাশিদা তালিব সামাজিক মাধ্যমে লেখেন, ভেনেজ়ুয়েলায় “উসকানিহীন হামলা” ও রাষ্ট্রপ্রধানকে আটক আন্তর্জাতিক আইন এবং মার্কিন সংবিধানের গুরুতর লঙ্ঘন। তাঁর দাবি, মার্কিন জনগণ বিদেশে আরেকটি সরকার পরিবর্তনের যুদ্ধে জড়াতে চায় না।
ডেমোক্র্যাট সিনেটর অ্যান্ডি কিম পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী হেগসেথের বিরুদ্ধে কংগ্রেসে মিথ্যা বলার অভিযোগ তুলেছেন। তাঁর মতে, কংগ্রেসের অনুমোদন এড়িয়ে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, যা দেশ ও অঞ্চলে অবস্থানরত মার্কিন নাগরিকদের ঝুঁকি বাড়াতে পারে এবং বিশ্বনেতাদের কাছে বিপজ্জনক বার্তা পাঠায়।
অন্যদিকে রিপাবলিকান শিবির এই অভিযানকে সমর্থন করে একে “ঐতিহাসিক সাফল্য” বলে দাবি করেছে। তাদের বক্তব্য, মাদুরো দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে আসছিলেন এবং ক্যারিবিয়ান অঞ্চলে নিরাপত্তা হুমকি তৈরি করেছিলেন। উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ক্যারিবিয়ান সাগরে মার্কিন যুদ্ধজাহাজ ও ডুবোজাহাজের উপস্থিতি বৃদ্ধি পেয়েছিল, যা ভেনেজ়ুয়েলাকে ঘিরে চাপানউতর আরও বাড়ায়।
আন্তর্জাতিক মহলে প্রতিক্রিয়া মিশ্র। একাধিক দেশ সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে জরুরি বৈঠকের দাবি জানিয়েছে। জাতিসংঘে বিষয়টি তোলার প্রস্তুতি চলছে বলে কূটনৈতিক সূত্রের খবর। ভেনেজ়ুয়েলায় জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছে এবং রাজধানীতে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘটনার প্রভাব শুধু ভেনেজ়ুয়েলা নয়, গোটা লাতিন আমেরিকা ও বৈশ্বিক রাজনীতিতে দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে। এখন নজর—আইনি ও কূটনৈতিক পথে এই সংকট কোন দিকে মোড় নেয়।