ওয়াশিংটন/বোগোতা— মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে প্রকাশ্যে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছেন কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেত্রো। এক বক্তব্যে পেত্রো বলেন, “আমি কলম্বিয়াতেই আছি। ট্রাম্প চাইলে এসে আমাকে নিয়ে যেতে পারেন।” একই সঙ্গে তিনি হুঁশিয়ারি দেন, পর্যাপ্ত গোয়েন্দা তথ্য ছাড়া কোনো সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হলে তার পরিণতি হবে ভয়াবহ।
ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটকের উদ্দেশ্যে পরিচালিত একটি মার্কিন অভিযানকে ট্রাম্প ‘সফল’ বলে দাবি করার পর থেকেই দুই নেতার মধ্যে এই বাগযুদ্ধ চরম আকার ধারণ করেছে। ট্রাম্পের মন্তব্যের জবাবে পেত্রো বলেন, অপরিকল্পিত হামলায় অসংখ্য শিশুর প্রাণহানি ঘটতে পারে এবং এর ফলে কলম্বিয়ায় হাজার হাজার গেরিলা যোদ্ধা পুনরায় সক্রিয় হয়ে উঠবে।
পেত্রোর দাবি, কলম্বিয়ার জনগণের একটি বড় অংশ তাকে সমর্থন করে। এমন পরিস্থিতিতে তাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা করা হলে জনগণ তীব্র প্রতিক্রিয়া জানাবে বলেও তিনি সতর্ক করেন।
এদিকে হোয়াইট হাউস থেকে কলম্বিয়াকে লক্ষ্য করে কড়া বার্তা দেওয়া হয়েছে। ট্রাম্প দাবি করেছেন, কলম্বিয়া বর্তমানে একজন ‘অসুস্থ’ মানুষের শাসনে রয়েছে, যিনি মাদক উৎপাদন ও যুক্তরাষ্ট্রে কোকেন পাচারে সহায়তা করছেন। কলম্বিয়ায় সামরিক অভিযান চালানো হবে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, বিষয়টি তার কাছে ‘সঠিক’ বলে মনে হচ্ছে।
হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র আনা কেলি জানান, মনরো ডকট্রিনের আওতায় পশ্চিম গোলার্ধে যুক্তরাষ্ট্রের আধিপত্য পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং মাদক পাচার বন্ধ করতে ট্রাম্প প্রশাসন বদ্ধপরিকর।
এর আগে মাদক পাচারের অভিযোগে প্রেসিডেন্ট পেত্রো ও তার পরিবারের সদস্যদের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিলেন ট্রাম্প। তবে এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে পেত্রো বলেন, তার নির্দেশেই কলম্বিয়ার ইতিহাসে সবচেয়ে বড় মাদক চালান জব্দ করা সম্ভব হয়েছে।
দুই দেশের শীর্ষ নেতৃত্বের এই প্রকাশ্য সংঘাত লাতিন আমেরিকার ভূরাজনীতিতে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া।