ফেনীর পরশুরামে এক সংখ্যালঘু হিন্দু ধর্মাবলম্বী শিক্ষককে ধর্মান্তরিত করে বিয়ে করার জন্য চাপ দেওয়া এবং কথা না শুনলে আত্মহত্যার মাধ্যমে ফাঁসিয়ে দেওয়ার হুমকির অভিযোগ উঠেছে এক মুসলিম নারী সহকর্মীর বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগী শিক্ষকের নাম হৃদয় কুমার বণিক (৩০)। তিনি উপজেলার নিজ কালিকাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কর্মরত।
এই ঘটনায় নিজের জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে এবং মিথ্যা মামলায় ফেঁসে যাওয়ার আশঙ্কায় গত ১২ এপ্রিল পরশুরাম থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন ভুক্তভোগী শিক্ষক। জিডি নম্বর: ৪২৮।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, নিজ কালিকাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষিকা **মুন্নি আক্তার** দীর্ঘ দিন ধরে তার সহকর্মী হৃদয় কুমার বণিককে উত্যক্ত করে আসছেন। মুন্নি আক্তার বয়সে হৃদয়ের চেয়ে অনেক বড় হওয়া সত্ত্বেও তাকে তার পরিবার ছেড়ে আসার জন্য এবং ধর্ম পরিবর্তন করে মুন্নিকে বিয়ে করার জন্য অনবরত মানসিক চাপ দিয়ে যাচ্ছেন।
হৃদয় কুমার বণিক অভিযোগ করেছেন, মুন্নি আক্তার তাকে বারবার হুমকি দিচ্ছেন যে, হৃদয় যদি তার কথা না শোনেন, তবে মুন্নি নিজে আত্মহত্যা করবেন এবং এর জন্য হৃদয়কে দায়ী করে তাকে চিরতরে ফাঁসিয়ে দেবেন।
অভিযুক্ত মুন্নি আক্তার একজন মুসলিম এবং ভুক্তভোগী হৃদয় কুমার বণিক একজন সনাতন হিন্দু ধর্মাবলম্বী। মুন্নি তাকে নিজের ধর্ম ত্যাগ করে তার সাথে চলে যেতে বাধ্য করার চেষ্টা করছেন।
ভুক্তভোগী শিক্ষক জানান, তিনি মুন্নি আক্তারকে বড় বোনের মতো শ্রদ্ধা করেন এবং তাকে 'আপু' বলে সম্বোধন করেন। কিন্তু সহকর্মীর এমন অনৈতিক ও অযৌক্তিক আচরণে তিনি মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছেন।
"আমি তাকে বড় বোনের মতো সম্মান করি। কিন্তু তিনি আমার ধর্ম এবং পরিবার নিয়ে আমাকে চরম অশান্তিতে ফেলেছেন। তিনি বারবার আত্মহত্যার ভয় দেখাচ্ছেন, যা আমার ব্যক্তিগত ও পেশাগত জীবনের জন্য চরম হুমকিস্বরূপ।"
হৃদয় কুমার বণিকের বাড়ি পরশুরাম উপজেলার বক্সমাহমুদ ইউনিয়নের টেটেশ্বর গ্রামে। বর্তমানে তিনি কর্মক্ষেত্রে ও ব্যক্তিগত জীবনে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। স্থানীয়রা এই ঘটনাকে একজন শিক্ষকের প্রতি অন্য শিক্ষকের অপেশাদার ও হয়রানিমূলক আচরণ হিসেবে দেখছেন।
পরশুরাম থানা পুলিশ সূত্রে জানানো হয়েছে, সাধারণ ডায়েরিটি গুরুত্বের সাথে গ্রহণ করা হয়েছে এবং বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।