ঢাকা
খ্রিস্টাব্দ

ভারতের বিমানবন্দর থেকে ফিরতে হলো প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ডা. জাহেদকে

দিল্লি বিমানবন্দরে তিক্ত অভিজ্ঞতা; ভিসা জটিলতা ও 'ওয়াচলিস্ট' বিভ্রাটে দেশে প্রত্যাবর্তন
দৈনিক লাল সবুজ বাংলাদেশ

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট | দৈনিক লাল সবুজ বাংলাদেশ
ঢাকা
সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬, ৩.৩৬ পূর্বাহ্ন

আপডেট : সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬, ৩.৩৬ পূর্বাহ্ন


নিউজটি দেখেছেনঃ 13200 জন

  • নিউজটি দেখেছেনঃ 13200 জন
ভারতের বিমানবন্দর থেকে ফিরতে হলো প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ডা. জাহেদকে


ভারতের নয়া দিল্লি বিমানবন্দরে চরম এক তিক্ত অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়েছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। একটি সরকারি বৈঠকে অংশ নিতে প্রতিনিধিদলের সদস্য হিসেবে দিল্লি পৌঁছালেও, শেষ পর্যন্ত ভারতীয় ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষের আপত্তির মুখে তাকে ঢাকাগামী ফিরতি ফ্লাইট ধরতে হয়েছে। কূটনৈতিক সূত্র এবং ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলোর বরাতে জানা গেছে, গতকাল রোববার (১৪ জুন) দিল্লির ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এই ঘটনা ঘটে।




সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল কূটনৈতিক সূত্র এবং বিভিন্ন সংবাদের তথ্যে জানা যায়, প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টার মূলত ভিসা সংক্রান্ত জটিলতা ছিল। সরকারের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকা সত্ত্বেও তিনি কূটনৈতিক পাসপোর্টের পরিবর্তে সাধারণ পাসপোর্টে ভ্রমণ করছিলেন। অথচ এতদিনে তার কূটনৈতিক পাসপোর্ট হয়ে যাওয়ার কথা ছিল। এই সাধারণ পাসপোর্টে ভ্রমণের কারণেই ইমিগ্রেশনে প্রথম জটিলতা তৈরি হয়।




এদিকে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম নিউজ১৮-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিয়মিত ইমিগ্রেশন প্রক্রিয়ার সময় ডা. জাহেদ উর রহমানের নাম নিরাপত্তাসংক্রান্ত একটি ‘নজরদারি তালিকায়’ (ওয়াচলিস্ট) শনাক্ত হয়। এর পরপরই তাকে অতিরিক্ত যাচাই-বাছাই ও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য বিমানবন্দরে আটকে রাখা হয়।




প্রতিবেদনে সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে জানানো হয়, এই ঘটনাটি মূলত প্রশাসনিক জটিলতা ও তথ্য হালনাগাদ না হওয়ার কারণে ঘটেছে। ডা. জাহেদ উর রহমানের নাম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম-সংশ্লিষ্ট একটি কালোতালিকা (ব্ল্যাকলিস্ট) থেকে আগেই অপসারণ করা হয়েছিল। তবে সেই তথ্য ভারতীয় অভিবাসন বিভাগের ওয়াচলিস্টে যথাসময়ে হালনাগাদ না হওয়ায় তার নাম সেখানে স্বয়ংক্রিয়ভাবে থেকে যায়। ফলে তিনি দিল্লি বিমানবন্দরে প্রবেশ করতেই নিরাপত্তা সতর্কবার্তা জারি হয়।




দিল্লির একটি সূত্র জানিয়েছে, ভারতে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার এম রিয়াজ হামিদুল্লাহ আগে থেকেই বিমানবন্দরে অপেক্ষমাণ ছিলেন। প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বিমানবন্দরে প্রত্যাখ্যাত হওয়ার বিষয়টি জানার পর তিনি তাৎক্ষণিকভাবে ভারত সরকারের উচ্চ মহলে যোগাযোগ করেন এবং ছাড়পত্রের জন্য জোর প্রচেষ্টা চালান। কিন্তু দীর্ঘ চেষ্টা সত্ত্বেও ভারতীয় কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে কোনো কাঙ্ক্ষিত সাড়া মেলেনি।




ভারতীয় সূত্রের দাবি, দীর্ঘ প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই শেষে পরবর্তীতে ডা. জাহেদকে ভারতে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। তবে ততক্ষণে ইমিগ্রেশনে দীর্ঘ সময় ধরে হেনস্তা ও ‘তিক্ত অভিজ্ঞতার’ মুখোমুখি হতে হয় তাকে। এই অনাকাঙ্ক্ষিত ও অপমানজনক পরিস্থিতির কারণে ক্ষুব্ধ ও অসন্তুষ্ট হয়ে তিনি নিজেই সফর বাতিল করার সিদ্ধান্ত নেন এবং দিল্লির ছাড়পত্র গ্রহণ না করে ঢাকাগামী ফিরতি ফ্লাইট ধরেন।




এই চাঞ্চল্যকর ঘটনার বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে ভারত বা বাংলাদেশের কোনো দেশেরই পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য দেয়নি। এছাড়া ডা. জাহেদ উর রহমানের নাম ঠিক কী কারণে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম-সংশ্লিষ্ট ওই ওয়াচলিস্টে অন্তর্ভুক্ত হয়েছিল এবং তা কেন এখনো অভিবাসন বিভাগের নথিতে সক্রিয় ছিল, সে বিষয়েও স্পষ্ট কোনো ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।


নিউজটি পোস্ট করেছেনঃ এলএসবিডি/এনকেডি

কমেন্ট বক্স
বাংলাদেশ | সারা বিশ্ব
দৈনিক লাল সবুজ বাংলাদেশ

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট | দৈনিক লাল সবুজ বাংলাদেশ
ঢাকা
সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬, ৩.৩৬ পূর্বাহ্ন
আপডেট : সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬, ৩.৩৬ পূর্বাহ্ন