ফেনীর উত্তরাঞ্চল তথা পরশুরামে দীর্ঘদিন কেউ বসবাস করেন না, এমন একটি পরিত্যক্ত টিনের বাড়ির অক্টোবর মাসের বিদ্যুৎ বিল এসেছে ১ লাখ ২৫ হাজার ৪৭ টাকা। উপজেলার চিথলিয়া ইউনিয়নের নোয়াপুর গ্রামের ঘটনা এটি। এ যেন ভূতুড়ে বিলের বোঝা গ্রাহকের ঘাড়ে চাপিয়ে দেয়ার চেষ্টা!
সোমবার (১০ নভেম্বর) সকালে পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের লোকজন বিলের কাগজ বাড়িতে পৌঁছে দিলে বিষয়টি জানাজানি হয়। নোয়াপুর গ্রামের রেজু মিয়ার বাড়ির বিদ্যুৎ বিলের ওই কপি প্রস্তুত করেন পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের বিল প্রস্তুতকারী মিতা দাস। আগামী ১৩ নভেম্বর বিদ্যুৎ বিল পরিশোধের শেষ তারিখ উল্লেখ করা হয়েছে।
এদিকে রেজু মিয়া সপরিবারে গত পাঁচ বছর ধরে ঢাকায় থাকেন। ঢাকা থাকলেও গ্রামের বাড়ির বিদ্যুৎ সংযোগ এখনও সচল রেখেছেন।
রেজু মিয়ার ভাতিজা মাদ্রাসাশিক্ষক ইমাম হোসেন বলেন, সন্ধ্যা হলে মাঝে মাঝে একটি লাইট জ্বালানো হয়। এ ছাড়া ঘরের ভেতরে কোনো বৈদ্যুতিক পাখা, ফ্রিজ বা অন্য কোনো সংযোগ নেই। বিলের কপি পাওয়ার সাথে সাথে বিষয়টি আমার চাচা রেজু মিয়াকে জানালে তিনিও হতবাক হয়ে যান।
এ বিষয়ে ভুক্তভোগী পরিবারসহ এলাকাবাসী অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন গ্রাহকরা।
এ বিষয়ে বিল প্রস্তুতকারী মিতা দাস বলেন, ‘সফটওয়্যার ত্রুটির কারণে এ সমস্যা হয়েছে বিলের কপি নিয়ে এলে পুনরায় ঠিক করে দেওয়া হবে। কাজ করতে গেলে একটু ভুল হতেই পারে।’
ভুলবশত এমনটি হয়েছে বলে জানিয়েছে ফেনির পরশুরাম পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের উপমহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম)।
পরশুরাম পল্লী বিদ্যুৎ অফিসে জেনারেল ম্যানেজার (জিএম) মো. সোহেল আকতার বলেন, বিষয়টি তদন্তে একটি কমিটি গঠন করা হবে। যান্ত্রিক ত্রুটি অথবা অসাবধানতাবশত হতে পারে। বিল প্রস্তুতকারীর বিরুদ্ধে অবশ্যই ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।