News Link: https://dailylalsobujbd.com/news/3jE
আজ ১১ জুলাই। মিরসরাই ট্রাজেডির ১৫ বছর। ঘুরেফিরে আবারো স্মরণকালের সেই মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনার ভয়াল স্মৃতি ফিরে আসে কান্না, আর্তনাদ আর আহাজারি হয়ে। চোখের সামনে ভেসে ওঠে কারো ভাই, কারো সন্তান, কারো বন্ধু-স্বজন কিংবা প্রিয় ছাত্রদের অকালে নিঃশেষ হয়ে যাওয়ার দৃশ্যপট।
স্বজনের বুকফাটা আহাজারিতে এখনো ভারী হয় আবুতোরাবের আকাশ-বাতাস। এখনো গভীর রাতে আসে কান্নার রোল। স্মৃতি বলতে শুধুই ছবির ফ্রেম। নারীছেঁড়া ধন ছেলেকে হারিয়ে মা-বাবা সেই ছবি বুকে আঁকড়ে ধরে আহাজারি করেন। আবার কখনো হয়ে যান নির্বাক।
জানা গেছে, ২০১১ সালের ১১ জুলাই চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলা সদর স্টেডিয়াম থেকে ফুটবল খেলা দেখে মিনি ট্রাকযোগে বাড়ি ফিরছিল এক ঝাঁক শিক্ষার্থী। পথে বড়তাকিয়া-আবুতোরাব সড়কের সৈদালী এলাকায় চালকের অসতর্কতায় শিক্ষার্থীকে বহনকারী মিনি ট্রাকটি উল্টে পাশের ডোবায় পড়ে যায়। যেখানে ৪৩ জন শিক্ষার্থীসহ ৪৫টি তাজা প্রাণ ঝরে যায়। এসময় সাবেক মন্ত্রী এবং স্থানীয় সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন বিদেশ থেকে দ্রুত ফিরে আসে এবং মিরসরাই উপজেলা চেয়ারম্যান আলহাজ্ব গিয়াস উদ্দীন সরাসরি ঘটনাস্থলে থেকে তাদের চিকিৎসা ব্যবস্থা তদারকি করেন। এছাড়াও সাবেক সংসদ সদস্য মাহবুব-উর রহমান রুহেল তখন গুরতর আহতদের চিকিৎসা সেবায় হেলিকপ্টারের ব্যবস্থাসহ চিকিৎসা সেবায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। দেশ এবং বিশ্বগণমাধ্যমে মিরসরাইয়ে একসাথে ৪৫ প্রান ঝরে যাওয়ার বিষয়টি খবরের শিরোনাম হয়ে উঠে আসে।
লাশের মিছিলে ভারী হয়ে ওঠে গ্রামের পর গ্রাম। শোকের জনপদে পরিণত হয়েছিল মায়ানী, আবুতোরাব, মঘাদিয়াসহ পার্শ্ববর্তী সাতটি গ্রাম। আজও সেই ডোবার পাশে এলেই গা শিউরে ওঠে স্বজন-সহপাঠী কিংবা পথচারীদের।
স্মৃতি বলতে শুধুমাত্র ছবির ফ্রেমই রয়েছে। ছেলে হারা বাবা-মা আর স্বজনরা সেই ছবি বুক নিয়ে আহাজারি করেন। আবার কখনো কখনো নীরব-নিস্তব্ধ হয়ে একেবারেই নির্বাক। দেখতে দেখতে ১৫ বছর পার করে দিলো মিরসরাই ট্র্যাজেডি।
বরাবরের মত দিবসটি পালন উপলক্ষে আবুতোরাব বহুমুখী উচ্চবিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বিভিন্ন কর্মসূচির আয়োজন করেছে। এর মধ্যে রয়েছে- স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ, শোকসভা ও দোয়া মাহফিল। এতে উপস্থিত থাকবেন চট্টগ্রাম-১ (মিরসরাই) আসনের সংসদ সদস্য নুরুল আমিন ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সোমাইয়া আক্তার। এছাড়াও প্রয়াত শিক্ষার্থীদের অভিভাবকসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও সমাজের গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত থাকবেন।
নিহত ছাত্রদের স্মরণে আবুতোরাব উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রবেশ মুখে স্থাপন করা হয়েছে স্মৃতিস্তম্ভ ‘আবেগ’ আর দুর্ঘটনাস্থলে নির্মাণ করা হয়েছে স্মৃতিস্তম্ভ ‘অন্তিম’।
নিহতদের মধ্যে আবুতোরাব উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্র বেশি হওয়ায় তাদের স্মৃতি রক্ষায় বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে ২০১২ সালে নির্মাণ করা হয় স্মৃতিস্তম্ভ ‘আবেগ’। স্মৃতিস্তম্ভ ‘আবেগ’-এ নিহতদের ছবি সংযুক্ত করা হয়েছে।
আবুতোরাব উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মর্জিনা আক্তার গণমাধ্যমকে জানান, ১১ জুলাই তারিখটা ক্যালেন্ডারে প্রতিবছর ফিরে আসে। কিন্তু তারিখটা মিরসরাইবাসীর কাছে ফিরে আসে চাপা কান্না আর গভীর হাহাকার নিয়ে। প্রতিবারের মতো এবারও দিবসটি উপলক্ষে স্কুল কর্তৃপক্ষ বিভিন্ন কর্মসূচির আয়োজন করেছে। সকাল ১০টায় নিহতদের স্মরণে দুটি (আবেগ ও অন্তিম) স্মৃতিস্তম্ভে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হবে। এরপর বেলা ১১টায় স্কুলের হলরুমে শোকসভা অনুষ্ঠিত হবে।
উল্লেখ্য, ২০১১ সালের ১১ জুলাই চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলা সদরের স্টেডিয়াম থেকে বঙ্গবন্ধু-বঙ্গমাতা ফুটবল খেলা দেখে বাড়ি ফেরার পথে বড়তাকিয়া-আবুতোরাব সড়কের সৈদালী এলাকায় চালকের অসতর্কতায় শিক্ষার্থীকে বহনকারী একটি মিনি ট্রাক উল্টে পাশ্ববর্তী ডোবায় পড়ে যায়। এসময় উপজেলার আবুতোরাব উচ্চ বিদ্যালয়ের ৩৪ জন, আবুতোরাব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চারজন, আবুতোরাব ফাজিল মাদরাসার দু’জন, প্রফেসর কামাল উদ্দিন চৌধুরী কলেজের দু’জন শিক্ষার্থী নিহত হয়। এছাড়াও এক অভিভাবকসহ দু’জন ফুটবলপ্রেমীও নিহত হন এবং সেদিনের দুর্ঘটনায় ৪৩ জন শিক্ষার্থীসহ ৪৫টি তাজা প্রাণ ঝরে যায়। লাশের মিছিলে ভারী হয়ে ওঠে গ্রামের পর গ্রাম। শোকের জনপদে পরিণত হয়েছিল মায়ানী, আবুতোরাব, মঘাদিয়াসহ পাশ্ববর্তী সাতটি গ্রাম। আজও সেই ডোবার পাশে এলেই গা শিউরে উঠে স্বজন-সহপাঠী কিংবা পথচারীদের। স্মৃতি বলতে শুধুমাত্র ছবির ফ্রেমই রয়েছে। পুত্র হারা বাবা-মা আর স্বজনরা সেই ছবি বুক নিয়ে আহাজারি করেন। আবার কখনও কখনও নীরব-নিস্তব্ধ হয়ে একেবারেই নির্বাক। দেখতে দেখতে ১৫ বছর পার করে দিল মিরসরাই ট্র্যাজেডি। ওই সময় নিহতদের স্বজনদের সমবেদনা জানাতে ছুটে আসেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, বিরোধীদলীয় নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া, জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান ও সাবেক রাষ্ট্রপতি মরহুম এইচ এম এরশাদ, বিকল্পধারা বাংলাদেশের চেয়ারম্যান ও সাবেক রাষ্ট্রপতি এ কিউ এম বদরুদ্দৌজা চৌধুরীসহ দেশের বিশিষ্টজনরা। নিহতদের স্মরণে স্থাপন করা হয় স্মৃতিস্তম্ভ ‘আবেগ’ ও ‘অন্তিম’।