News Link: https://dailylalsobujbd.com/news/3h0
চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের বিশেষ অভিযানে রাউজান ও রাঙ্গুনিয়া থানার কয়েকটি বসতঘরে পরিকল্পিত অগ্নিসংযোগের ঘটনায় জড়িত একটি সংঘবদ্ধ চক্রের রহস্য উদঘাটন হয়েছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ৭ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। চট্টগ্রাম রেঞ্জের উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) মো. আহসান হাবীব পলাশ মঙ্গলাবার (১৩ জানুয়ারি) এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এই তথ্য জানান।
জানা যায়, গত ডিসেম্বর ২০২৫ সালে চট্টগ্রাম জেলার রাউজান ও রাঙ্গুনিয়া এলাকায় গভীর রাতে দুর্বৃত্তরা কয়েকটি বসতঘরে অগ্নিসংযোগ করে। এসব ঘটনায় কিছু ঘর আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হলেও কয়েকটি বসতঘর সম্পূর্ণ ভস্মীভূত হয়। ঘটনাস্থল থেকে প্লাস্টিকের বস্তা দিয়ে তৈরি উসকানিমূলক ব্যানার উদ্ধার করা হয়, যেখানে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টের আহ্বান, কয়েকজন রাজনৈতিক নেতার নাম এবং অর্ধশতাধিক মোবাইল নম্বর লেখা ছিল। প্রাথমিক তদন্তে এসব ঘটনাকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও ষড়যন্ত্রমূলক বলে প্রতীয়মান হয়।
ঘটনার তদন্ত ও জড়িতদের গ্রেফতারের লক্ষ্যে তথ্য-উপাত্ত, প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণ এবং সাক্ষ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে গত ২ জানুয়ারি ২০২৬ দুপুর আনুমানিক সাড়ে ১২টার দিকে রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলার কলেজ গেট এলাকা থেকে একজনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। গ্রেফতারের পর তার বসতঘর তল্লাশি করে ৩টি খালি প্লাস্টিকের বস্তা উদ্ধার করা হয়, যা ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধারকৃত ব্যানারের সঙ্গে সম্পূর্ণ মিল রয়েছে।
গ্রেফতারকৃত আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, রাঙ্গামাটির লোকমান, রাঙ্গামাটি পৌরসভার সাবেক এক কমিশনার এবং রাউজানের একজন ব্যক্তির পরিকল্পনায় ১৫–১৬ জনের একটি সংঘবদ্ধ চক্র দেশের বিভিন্ন স্থানে হিন্দু ও বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের বসতঘরে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটায়। পাশাপাশি পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর বসতঘরে অগ্নিসংযোগের পরিকল্পনাও ছিল। জনমনে ভীতি ও বিভ্রান্তি সৃষ্টির লক্ষ্যে তারা উসকানিমূলক ব্যানার টানিয়ে রাখে।
তদন্তে আরও উঠে আসে, এসব ঘটনার মাধ্যমে একদিকে দেশে সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা সৃষ্টি এবং অন্যদিকে বাংলাদেশে সংখ্যালঘু নির্যাতনের অপপ্রচার চালিয়ে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে সরকারকে বেকায়দায় ফেলার চক্রান্ত করা হয়। এছাড়া গ্রেফতারকৃত মনিরের পারিবারিক বিরোধ ও প্রতিশোধমূলক মনোভাব থেকে ব্যানারে কিছু ব্যক্তির নাম ও মোবাইল নম্বর যুক্ত করা হয়।
গ্রেফতারকৃত আসামিরা হলেন— ১. মনির হোসেন, ২. মোহাম্মদ ওমর ফারুক, ৩. মোহাম্মদ কবির হোসেন, ৪. কার্তিক দে, ৫. বিপ্লব বড়ুয়া, ৬. মোহাম্মদ লোকমান, ৭. মোঃ পারভেজ।
পুলিশ জানায়, আসামিদের হেফাজত ও ঘটনাস্থল থেকে ৪টি উসকানিমূলক ব্যানার, কেরোসিন তেলের কন্টেইনার ২টি, কেরোসিনের বোতল ১টি, তেলমাখা লুংগি ও শার্ট, খালি প্লাস্টিকের বস্তা ৩টি, ব্যানারে উল্লেখিত নম্বর সংরক্ষিত একটি মোবাইল ফোন, একটি সিএনজি চালিত অটোরিকশা এবং একটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়েছে, যা পাঁচটি ঘটনাস্থলে যাতায়াতে ব্যবহৃত হয়েছিল।
প্রাথমিক তদন্তে জানা যায়, মূল পরিকল্পনাকারী স্থানীয় একটি নার্সারি ব্যবসার সঙ্গে জড়িত এবং পরিকল্পনা বাস্তবায়নের সমন্বয়কারী রাঙ্গামাটিতে বসবাসকারী একজন ব্যক্তি। এছাড়া নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন সমর্থিত এক সাবেক কমিশনার আর্থিক সহায়তা দিয়েছেন বলে তথ্য পাওয়া গেছে।
গ্রেফতারকৃত মনির হোসেন ইতোমধ্যে ঘটনার দায় স্বীকার করে বিজ্ঞ আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। পুলিশের তথ্যমতে, অন্যান্য সহযোগীদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ জানিয়েছে, অগ্নিসংযোগ, উসকানি ও সামাজিক সম্প্রীতি বিনষ্টের যেকোনো অপচেষ্টা কঠোর হাতে দমন করা হবে এবং এ ধরনের অপরাধে জড়িত সবাইকে আইনের আওতায় আনা নিশ্চিত করা হবে।