কক্সবাজারের টেকনাফ সীমান্তে মাইন বিস্ফোরণে মোহাম্মদ হানিফ (২২) নামে এক যুবকের পা বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। আহত মোহাম্মদ হানিফ টেকনাফ উপজেলার হোয়াইক্যং ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের লম্বাবিল এলাকার বাসিন্দা। সোমবার (১২ জানুয়ারি) সকাল ১০টার দিকে টেকনাফের হোয়াইক্যং লম্বাবিল সীমান্তের হাউসরদ্বীপ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ভুক্তভোগীর পিতা মো. ফজলুল হক।
ভুক্তভোগীর পিতা জানান, সোমবার সকালে তার ছেলে হাউসরদ্বীপ এলাকায় একটি চিংড়ি ঘেরে মাছ ধরতে গেলে ঘেরের বাঁধে পুঁতে রাখা একটি মাইন বিস্ফোরিত হয়। এতে তার দুই পায়ে মারাত্মক আঘাত লাগে। বিস্ফোরণে ডান পায়ের গোড়ালি সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় এবং বাম পায়েও গুরুতর জখম হয়। তিনি আরও জানান, ঘটনার খবর পেয়ে স্থানীয়দের সহায়তায় দুপুর ১২টার দিকে মোহাম্মদ হানিফকে উদ্ধার করে কুতুপালং এমএসএফ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
হোয়াইক্যং পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই খোকন কান্তি রুদ্র গণমাধ্যমকে বলেন, “স্থানীয়দের মাধ্যমে জানতে পেরেছি, সোমবার সকালে বাংলাদেশ–মিয়ানমার সীমান্তের হোয়াইক্যং লম্বাবিল এলাকার হাউসরদ্বীপে পুঁতে রাখা একটি মাইন বিস্ফোরণে মোহাম্মদ হানিফ নামে এক যুবক আহত হন। পরে তাকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।”
উল্লেখ্য, গত চার দিন ধরে টেকনাফের হোয়াইক্যং সীমান্তের ওপারে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে আরাকান আর্মি ও রোহিঙ্গা বিদ্রোহী গোষ্ঠীর মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষ চলছিল। গতকাল রবিবার ভোরের দিকে মিয়ানমারের অভ্যন্তরে ব্যাপক গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। ওই সময় সীমান্তের ওপার থেকে আসা গুলিতে আফনান আরা (১২) নামের এক কিশোরী নিহত নয় এবং অপর এক শিশু হোজাইফা আহত হয়ে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে সংকটাপন্ন অবস্থায় ভর্তি রয়েছে। এর আগে, গত বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) রাতে নাফ নদীর হোয়াইক্যং অংশে মাছ ধরার সময় মো. আলমগীর (৩০) নামে এক বাংলাদেশি জেলে গুলিবিদ্ধ হন।
এদিকে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মিয়ানমারে আরাকান আর্মির সঙ্গে গোলাগুলিতে আহত হয়ে দেশ ছেড়ে পালিয়ে আসছেন আরসা গ্রুপের সদস্যরা। রবিবার সকাল থেকে টেকনাফের হোয়াইক্যং লম্বাবিল এলাকায় সড়ক অবরোধ করেছেন জনতা। আজকের ঘটনায়ও স্থানীয় জনতা সড়কে নেমে বিক্ষোভ করে। তাদের দাবি, রোহিঙ্গা সমস্যা ও সরকারিভাবে বলিষ্ঠ পদক্ষেপ নেয়া হোক।