News Link: https://dailylalsobujbd.com/news/3gi
কারাকাস/ওয়াশিংটন: যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চরম উত্তেজনার মধ্যেই ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসে একের পর এক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্থানীয় সময় ভোরের দিকে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় বিকট শব্দে কেঁপে ওঠে শহর। এ সময় আকাশে ধোঁয়ার কুণ্ডলী উঠতে দেখা যায়।
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদক কারাকাসে বিস্ফোরণের শব্দ ও ধোঁয়ার দৃশ্য প্রত্যক্ষ করার কথা জানান। বার্তা সংস্থা রয়টার্স প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানায়, ভোরের দিকে একাধিক বিকট শব্দ শোনা গেছে। একই সঙ্গে মার্কিন সংবাদ সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি) জানায়, রাজধানীতে অন্তত সাতটি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে এবং বেশ নিচু দিয়ে কয়েকটি বিমান উড়ে যেতে দেখা গেছে। তবে এগুলো সামরিক বিমান ছিল কিনা, সে বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য জানানো হয়নি।
বিস্ফোরণের পর কারাকাসের দক্ষিণাঞ্চলের একটি বড় সামরিক ঘাঁটির আশপাশের এলাকায় বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। তবে এখন পর্যন্ত বিস্ফোরণে হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে ভেনেজুয়েলা সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বিবৃতি দেওয়া হয়নি।
এদিকে বিস্ফোরণের এই ঘটনার মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলার বিরুদ্ধে বড় ধরনের সামরিক অভিযান চালিয়েছে বলে দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শনিবার (স্থানীয় সময়) নিজের মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলার বিরুদ্ধে ‘লার্জ স্কেল স্ট্রাইক’ বা ব্যাপক হামলা পরিচালনা করেছে।
ট্রাম্পের দাবি অনুযায়ী, অভিযানের সময় ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রীকে আটক করে দেশটির বাইরে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, “যুক্তরাষ্ট্র সফলভাবে ভেনেজুয়েলার বিরুদ্ধে বড় ধরনের অভিযান পরিচালনা করেছে এবং দেশটির নেতা প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে তার স্ত্রীর সঙ্গে গ্রেপ্তার করে দেশটির বাইরে নিয়ে আসা হয়েছে। এই অভিযান যুক্তরাষ্ট্রের আইনশৃঙ্ঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে পরিচালনা করা হয়েছে।”
ট্রাম্প আরও জানান, এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানাতে স্থানীয় সময় বেলা ১১টায় ফ্লোরিডার মার-আ-লাগোতে একটি সংবাদ সম্মেলন করা হবে।
এর আগে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে বলেন, ওয়াশিংটন তার সরকার উৎখাত এবং দেশের বিপুল তেলসম্পদের নিয়ন্ত্রণ নিতে নিষেধাজ্ঞা ও সামরিক চাপ প্রয়োগ করছে। যদিও সাম্প্রতিক সময়ে মাদক পাচার দমনে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি চুক্তি নিয়ে আলোচনায় আগ্রহের কথাও জানান তিনি। তবে গত সপ্তাহে ভেনেজুয়েলায় ‘কথিত’ সিআইএ-নেতৃত্বাধীন হামলার বিষয়ে তিনি কোনো মন্তব্য করেননি।
যুক্তরাষ্ট্রের হামলার বিষয়ে সরাসরি প্রশ্ন করা হলে মাদুরো বলেন, “এটি নিয়ে হয়তো আমরা কয়েক দিনের মধ্যে আলোচনা করতে পারি।” একই সঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি তেল চায়, তবে শেভরনের মতো মার্কিন কোম্পানির বিনিয়োগের জন্য ভেনেজুয়েলা প্রস্তুত।
ট্রাম্প প্রশাসনের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ক্যারিবীয় সাগর ও পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরে নৌযানে এখন পর্যন্ত ৩৫টি হামলা চালানো হয়েছে। এসব অভিযানে অন্তত ১১৫ জনের প্রাণহানি ঘটেছে বলে দাবি করা হয়।
এদিকে প্রেসিডেন্ট মাদুরো ও তার স্ত্রী আটক হওয়ার ট্রাম্পের দাবির বিষয়ে ভেনেজুয়েলা সরকার বা দেশটির কোনো সরকারি সূত্র থেকে এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে, টেলিফোনে স্থানীয় একটি টেলিভিশন চ্যানেলকে দেয়া সাক্ষাৎকারে ভেনেজুয়েলার ভাইস প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের সরকারের কাছে মাদুরো ও তার স্ত্রী ফ্লোরেসের অবস্থান ও বেঁচে থাকার প্রমাণ চেয়েছেন বলে জানিয়েছে ভেনেজুয়েলার রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম এল ন্যাশিওনাল। মার্কিন আগ্রাসনের মুখে ‘দেশ রক্ষার জন্য‘ নাগরিক-সামরিক সংমিশ্রণে সক্রিয় হওয়ার জন্য দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন ডেলসি রদ্রিগেজ।
এদিকে ভেনেজুয়েলা সরকার বলেছে, যুক্তরাষ্ট্র কারাকাসে ‘আগ্রাসন’ চালিয়েছে। তারা যুক্তরাষ্ট্রের এই ‘সামরিক আগ্রাসন’ প্রত্যাখ্যান করছে। পরিস্থিতি মোকাবিরায় ভেনেজুয়েলায় জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছে। ভেনেজুয়েলা সরকারের বিবৃতি অনুযায়ী, কারাকাসের পাশাপাশি মিরান্ডা, আরাগওয়া ও লা গুয়াইরা রাজ্যেও হামলা চালানো হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে প্রেসিডেন্ট মাদুরো দেশজুড়ে জাতীয় জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছেন এবং সেই সঙ্গে প্রতিরক্ষা বাহিনী মোতায়েন করেছেন।