ফরিদপুর সদর উপজেলার পশ্চিম খাবাসপুর এলাকায় অবস্থিত যমুনা হাসপাতালে ভুল চিকিৎসা ও দালালের প্রতারণার কারণে মৃত্যুর সাথে লড়ছেন মিনারা বেগম (৩৫)। অভিযোগ উঠেছে, হাসপাতালটির দালাল চক্রের প্রভাবে তিনি একের পর এক ভুল অপারেশনের শিকার হন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মিনারা বেগম প্রথমে শারীরিক জটিলতায় ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দালাল চক্রের মূলহোতা হিসেবে পরিচিত নাসিমা আক্তার নামে এক নারী তার খোঁজ পান। নাসিমা নিজেকে হাসপাতাল সংক্রান্ত অভিজ্ঞ ও "ডিএমসিসি ডিগ্রিধারী" দাবি করে মিনারাকে প্রলুব্ধ করেন এবং যমুনা ডায়াগনস্টিক হাসপাতালে ভালো চিকিৎসা হয় বলে নিয়ে আসে। এরপরে শুরু হয় একের পর একেক নাটকীয় ঘটনা, রক্তচোষা দালালী কৌশল।
প্রথমে ২০ হাজার টাকা চুক্তিতে মিনারাকে যমুনা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর বিভিন্ন পরীক্ষার নামে আরও প্রায় ১০ হাজার টাকা নেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। পরে জরায়ুর অপারেশন সম্পন্ন করে তাকে ছুটি দেওয়া হয়।
ভুক্তভোগী মিনারা বেগম বলেন,বাড়ি ফেরার পর আমার শারীরিক অবস্থা দ্রুত অবনতি ঘটে। পুনরায় যমুনা হাসপাতালে নেওয়া হলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানান, তার পিত্তথলিতে পাথর ধরা পড়েছে এবং তা অপারেশন করা লাগবে। প্রথম অপারেশনের মাত্র ২২ দিন পর আবারও অপারেশন করানো হয় মিনারাকে। দ্বিতীয় অপারেশনের পর রোগীর অবস্থা আশঙ্কাজনক হলে যমুনা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করে।
বর্তমানে মিনারা বেগম দীর্ঘদিন ধরে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছেন। দালাল চক্রের স্বীকারোক্তি ও হাসপাতালের অসঙ্গতির ব্যাপারে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে নাসিমা আক্তার জানান, তিনি এই হাসপাতালের এক ডাক্তারের সাত বছর ধরে ব্যক্তিগত সহকারী এবং “প্রতিটি ওটি ভিত্তিক”৩০০ টাকা করে পান।
নাসিমা বলেন তিনি রোগীর কাছ থেকে ১৫ হাজার টাকা নিয়েছেন এবং এর মধ্যে ১০ হাজার ৫০০ টাকা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে দিয়েছেন।
অপরদিকে, যমুনা হাসপাতালের পরিচালক হাফিজুর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, “নাসিমা আমাদের কাছে দশ হাজার পাঁচশত টাকা জমা দিয়েছে,” তবে দালাল চক্রের বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি।
নাসিমা আরও দাবি করেন, তিনি বর্তমানে এলএলবি শিক্ষার্থী এবং “বাংলাদেশ পরিবার পরিকল্পনা সমিতির সাথে যুক্ত”রয়েছেন। তবে তার শিক্ষাগত যোগ্যতা যাচাই করতে গেলে তিনি নিজেই জানান, “আমি আনুমানিক ২০১৬ সালে এসএসসি পাশ করেছি,”—যা তার পেশাগত দাবির সাথে সাংঘর্ষিক।
ভুক্তভোগী মিনার স্বামী আশরাফ উদ্দিন জানান, প্রথমে ২০ হাজার টাকা কন্টাক্টে চিকিৎসা শুরু হলেও, পরবর্তীতে বিভিন্ন অপারেশন, ওষুধ ও পরীক্ষার খরচ মিলিয়ে যমুনা হাসপাতালে প্রায় দেড় লক্ষ টাকা খরচ হয়েছে। তিনি বলেন, “আমার স্ত্রী এখন মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছে। এই হাসপাতালের ভুল চিকিৎসা ও দালাল চক্রের জন্যই আজ আমার স্ত্রী মৃত্যুর সাথে লড়ছেন।
আশরাফ উদ্দিন বলেন ভুল অপারেশন করে খাদ্যনালী কিছুটা ছিদ্র হয়েছে বলে জানান। এ ব্যাপারে ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার ও সিভিল সার্জনের কাছে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
স্থানীয় সচেতন মহল এবং সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষ এই ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তারা বলেন, “ফরিদপুরসহ সারাদেশে এ ধরনের দালাল ও ভুল চিকিৎসার কারণে প্রতিনিয়ত নিরীহ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ জরুরি।”
বর্তমানে মিনারা বেগম ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন, তার শারীরিক অবস্থা সংকটাপন্ন। ভুক্তভোগীর পরিবার ও এলাকাবাসী দ্রুত তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন।