ঢাকা
খ্রিস্টাব্দ

হামের প্রাদুর্ভাবে ঝুঁকিতে দেশের শিশু— টিকা আছে, প্রয়োগ নেই

অব্যবস্থাপনা, সমন্বয়হীনতা ও দীর্ঘ টিকাবিরতিতে ভেঙে পড়েছে ইপিআই—বরাদ্দ এলেও বাস্তবায়ন প্রশ্ন?
দৈনিক লাল সবুজ বাংলাদেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক | দৈনিক লাল সবুজ বাংলাদেশ
চট্টগ্রাম
সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২৬, ৭.৪৫ অপরাহ্ন

আপডেট : সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২৬, ৭.৪৫ অপরাহ্ন


নিউজটি দেখেছেনঃ 349682 জন

  • নিউজটি দেখেছেনঃ 349682 জন
হামের প্রাদুর্ভাবে ঝুঁকিতে দেশের শিশু— টিকা আছে, প্রয়োগ নেই
ছবিঃ চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন হামের লক্ষণসহ জ্বর, সর্দি-কাশি ও নিউমোনিয়া নিয়ে শিশুরা ভর্তি হয়েছে। ছবি- সংগৃহীত।


টিকা রয়েছে, কিন্তু তা পৌঁছাচ্ছে না শিশুদের শরীরে—এই বাস্তবতায় আবারও হামের প্রাদুর্ভাবে উদ্বেগ বাড়ছে দেশজুড়ে। সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হচ্ছে এক বছরের কম বয়সী শিশুরা, যাদের অনেকেই এখনো জীবনের প্রথম প্রতিরোধমূলক টিকাটিও পায়নি।


সরকারি তথ্য অনুযায়ী, দেশে প্রায় দুই কোটি এমআর (মিজেলস-রুবেলা) টিকা মজুত রয়েছে। তবুও জনবল সংকট, প্রশিক্ষণের ঘাটতি, সিরিঞ্জসহ প্রয়োজনীয় লজিস্টিকের অভাব এবং অর্থ ছাড়ে জটিলতার কারণে টিকাদান কার্যক্রম কার্যত থমকে আছে।


স্বাস্থ্যখাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এটি কোনো একদিনের সংকট নয়; বরং দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনা ও পরিকল্পনাহীনতার ফল। ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর স্বাস্থ্য খাতের সেক্টর প্রোগ্রাম বন্ধ হয়ে যাওয়ার প্রভাব এখনো কাটেনি। এর পরবর্তী সময়ের আর্থিক ও প্রশাসনিক সমন্বয়হীনতা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে।


ফলে প্রায় নয় মাস ধরে নিয়মিত টিকাদান কার্যক্রমে বড় ধরনের ছেদ পড়েছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে শিশুদের ওপর—অনেকেই নির্ধারিত সময় অনুযায়ী ৯ মাস ও ১৫ মাস বয়সের দুই ডোজ টিকা সম্পন্ন করতে পারেনি।


এই টিকাবঞ্চিত শিশুরাই এখন হামের সংক্রমণের প্রধান লক্ষ্যবস্তু হয়ে উঠছে।


দেশের অন্তত ১২টি জেলায় হামের প্রাদুর্ভাবের তথ্য পাওয়া গেছে। ঢাকা, ময়মনসিংহ, রাজশাহী, চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন অঞ্চলে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে। হাসপাতালগুলোতে ভর্তি ও মৃত্যুর সংখ্যা উদ্বেগজনক হারে বাড়লেও কেন্দ্রীয় পর্যায়ে তথ্যের ঘাটতি ও অসামঞ্জস্য লক্ষ্য করা যাচ্ছে।


রাজধানীর সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালে চলতি বছর প্রায় ৫০০ শিশু ভর্তি হয়েছে, যাদের মধ্যে ১৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। ময়মনসিংহ ও রাজশাহীতেও একই চিত্র—ক্রমাগত বাড়ছে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা।


জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা স্পষ্ট করে বলছেন, টিকাদান কর্মসূচিতে ছেদ পড়াই এই প্রাদুর্ভাবের মূল কারণ। টিকা না নেওয়া বা অসম্পূর্ণ ডোজ নেওয়ার ফলে একটি বড় জনগোষ্ঠী এখন সংক্রমণের ঝুঁকিতে রয়েছে।


একই সঙ্গে ঘনবসতিপূর্ণ পরিবেশ, অপুষ্টি এবং মাঠপর্যায়ে কর্মীর ঘাটতি পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। ইপিআই কর্মসূচিতে প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ শতাংশ পদ শূন্য থাকাও বড় একটি বাধা হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।


বর্তমান পরিস্থিতি মোকাবেলায় সরকার প্রায় ৬০০ কোটি টাকা বরাদ্দের কথা জানিয়েছে। তবে বাস্তবতা বলছে, বরাদ্দের ঘোষণা আর মাঠপর্যায়ের বাস্তবায়নের মধ্যে বড় একটি ফাঁক রয়ে গেছে।


স্বাস্থ্য খাতের ভেতরের সমন্বয়হীনতা এবং অপারেশনাল পরিকল্পনার দুর্বলতা কাটিয়ে উঠতে না পারলে এই বরাদ্দও কার্যকর ফল দেবে না—এমনটাই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।


দুই কোটি এমআর টিকা গুদামে, মাঠে নেই জনবল-সরঞ্জাম; ১২ জেলায় সংক্রমণ বাড়ছে দ্রুত। বিশেষজ্ঞদের মতে জরুরি এখনই?

* জরুরি ভিত্তিতে জাতীয় টিকাদান কার্যক্রম পুনরায় চালু

* শূন্যপদে দ্রুত জনবল নিয়োগ ও প্রশিক্ষণ

* প্রয়োজনীয় লজিস্টিক সরবরাহ নিশ্চিতকরণ

* টিকাবঞ্চিত শিশুদের জন্য বিশেষ ক্যাম্পেইন

* কেন্দ্র-মাঠপর্যায়ের সমন্বয় জোরদার


নিউজটি পোস্ট করেছেনঃ এলএসবিডি/এনকেডি

কমেন্ট বক্স
বাংলাদেশ | জাতীয়
দৈনিক লাল সবুজ বাংলাদেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক | দৈনিক লাল সবুজ বাংলাদেশ
চট্টগ্রাম
সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২৬, ৭.৪৫ অপরাহ্ন
আপডেট : সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২৬, ৭.৪৫ অপরাহ্ন