রাজশাহীতে গভীর নলকূপের গর্তে পড়ে দুই বছরের শিশু সাজিদের খোঁজ মিলেনি দীর্ঘ ২৮ ঘণ্টার উদ্ধার অভিযানের পরও। ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা নলকূপের গর্তে বিশেষ ক্যামেরা নামিয়েও ৪২ ফুট নিচ পর্যন্ত কোনো সন্ধান পাননি। বৃহস্পতিবার (১১ ডিসেম্বর) বিকেল ৩টায় ফায়ার সার্ভিস জানায়, এখন শিশুটিকে উদ্ধারে বৃহৎ পরিসরে মাটি খনন করা হচ্ছে এবং অভিযান আরও সময় লাগতে পারে।
বুধবার (১০ ডিসেম্বর) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে তানোর উপজেলার পাচন্দর ইউনিয়নের কোয়েলহাট পূর্বপাড়া গ্রামে নলকূপের জন্য খনন করা গর্তে পড়ে যায় দুই বছরের শিশু সাজিদ। সে পূর্বপাড়া গ্রামের রাকিব উদ্দীনের ছেলে।
শিশুটিকে উদ্ধারের সর্বশেষ প্রচেষ্টা হিসেবে ঘটনাস্থলে তিনটি এক্সক্যাভেটর এনে আশপাশের মাটি খনন করা শুরু করেছে ফায়ার সার্ভিস ও উদ্ধারকারী দল। খনন করা মাটির ভেতর সুড়ঙ্গ তৈরি করে শিশুটি যে গর্তে পড়ে গেছে সেখানে পৌঁছানোর চেষ্টা চলছে। তবে পানি ও কাদার কারণে উদ্ধারকারী দল বেশ বেগ পোহাচ্ছে।
এর আগের রাতেও কয়েক দফা ক্যামেরা দিয়ে গর্তের ভেতর অনুসন্ধান চালানো হয়। কিন্তু গর্তে ওপর থেকে পড়ে যাওয়া মাটি ও খড়ের স্তূপের কারণে শিশুকে শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।
ফায়ার সার্ভিসের পরিচালক (অপারেশন) লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ তাইজুল ইসলাম বলেন, “মাটির ওপর থেকে ৪২ ফুট গভীরতায়ও শিশুটির কোনো সন্ধান মেলেনি। তাই আশপাশের মাটি খননের বিকল্প নেই। আমরা সেই কাজটিই করছি।”
স্থানীয়রা শিশুটির নিরাপদ উদ্ধারের আশায় ঘটনাস্থলে ভিড় করেছে। ফায়ার সার্ভিস ও প্রশাসন বলছে—যত সময়ই লাগুক, শিশুটিকে উদ্ধারের চেষ্টা অব্যাহত থাকবে।
এদিকে, বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যা, সন্ধ্যা গড়িয়ে রাত, রাত গড়িয়ে পরদিন সকাল, সকাল গড়িয়ে বিকেল। উদ্ধার করা যায়নি শিশুটিকে। বৃহস্পতিবার (১১ ডিসেম্বর) সকলে ঘটনাস্থলে অদূরে সন্তানকে ফিরে পেতে মা রুনা খাতুন আহাজারি করছেন। এ সময় তিনি ‘আল্লাহ তুমি কাইড়া (কেড়ে) নিও না আল্লাহ’ বিলাপ করতে থাকেন। আহাজারি করতে করতে মা রুনা খাতুন বলেন, আল্লাহ আমার ছাওয়ালকে (ছেলে) কত কষ্ট করে মানুষ করেছি। আল্লাহ তুমি কাইড়া (কেড়ে) নিও না। আল্লাহ আমি কষ্ট করে মানুষ (বড়) করব। তুমি কাইড়া (কেড়ে) নিও না আল্লাহ। আল্লাহ তুমি আমার ছাওয়ালকে (ছেলে) আমার বুকে ফিরে দাও আল্লাহ।
এর আগে, বুধবার (১০ ডিসেম্বর) সাড়ে ১২টার দিকে তানোর উপজেলার পাচন্দর ইউনিয়নের কোয়েলহাট পূর্বপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। শিশু সাজিদ কোয়েলহাট পূর্বপাড়া গ্রামের রাকিব উদ্দীনের ছেলে।