প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা গেছে, কনসার্ট চলাকালে এক পক্ষ ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিলে অন্য পক্ষের সঙ্গে বাগ্বিতণ্ডা শুরু হয়। স্লোগান দেওয়া ব্যক্তিরা ছাত্রলীগের কর্মী বলে জানা গেছে, আর প্রতিবাদ জানায় ছাত্রদলের নেতা–কর্মীরা। কিছুক্ষণের মধ্যেই দুই পক্ষের মধ্যে তুমুল বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা গেছে, একটি পক্ষ কনভেনশন সেন্টারের মূল ফটক ভাঙচুরের চেষ্টা করে। এ সময় ভেতরে থাকা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গুলি ছোড়েন। একজন সাদা পোশাকধারী ব্যক্তিকে শটগান হাতে সামনে এগিয়ে যেতে দেখা যায়, তাঁর পেছনে ছিলেন পুলিশ সদস্যরা।
গুলিবিদ্ধ শরীফকে হাসপাতালে নিয়ে আসেন মো. নাঈম নামের এক তরুণ। তিনি জানান, পুলিশের গুলিতেই শরীফ আহত হন। চমেক হাসপাতালের পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক (এসআই) আলাউদ্দিন তালুকদার বলেন, গুলিবিদ্ধ ব্যক্তিরা সঠিক তথ্য দিচ্ছেন না, ফলে ঘটনার প্রকৃত কারণ নিশ্চিত করা যায়নি।
চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রদলের আহ্বায়ক সাইফুল আলম আহতদের দেখতে হাসপাতালে যান। তিনি গণমাধ্যমকে বলেন, “কনসার্ট চলাকালে ভেতরে আওয়ামী লীগের স্লোগান দেওয়া নিয়ে গণ্ডগোল হয়। পরে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।”
খুলশী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহীনুর জামান গণমাধ্যমকে বলেন, “ঘটনার কারণ জানতে তদন্ত চলছে। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে রয়েছেন।” তিনি আরও জানান, কনসার্ট আয়োজনকারী মোটরসাইকেল উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদের থানায় এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
আর্টসেল ব্যান্ডের পরিবেশনা ঘিরে আয়োজিত এই উন্মুক্ত কনসার্টটি সংঘর্ষের কারণে শেষ পর্যন্ত পণ্ড হয়ে যায়। বর্তমানে কনভেনশন সেন্টার ও আশপাশের এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।